ব্লগ বা ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনে ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় সমুহ।

ব্লগিংয়ের চতুর্থ পর্বে আজ আলোচনা করব ব্লগ বা ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় সমূহ কি কি। অর্থাৎ ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনে কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে।

ব্লগ বা ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনের আগে যা যা লক্ষ্য রাখবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে শুরু করে ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আয় এর সকল ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থিম অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্লগ বা ওয়েব সাইট থেকে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে গুগল এডসেন্স। আর এই গুগোল অ্যাডসেন্স এর অ্যাপ্রভাল এর জন্য ব্লগ বা ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনে গুগল গাইডলাইনস এর দেওয়া কিছু নিয়ম রয়েছে।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক ব্লগ বা ওয়েব সাইটের থীম বা টেম্পলেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে।

  1. রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট থিম
  2. ইউজার ফ্রেন্ডলি রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট থিম
  3. পেইড নাকি ফ্রি থিম
  4. থিমের আর্টিকেল মার্জিন
  5. থিম লোডিং স্পীড
  6. কাস্টমাইজেশন সুবিধা
  7. GPL এবং ক্রাক থিম

রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট থিম

ব্লগ বা ওয়েবসাইট থিম অবশ্যই রেস্পন্সিভ হতে হবে। রেসপনসিভ থিম এর অর্থ হল যেকোনো ডিভাইসে যখন আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ ভিজিট করা হবে তখন সেই ডিভাইজের রেজুলেশন অনুযায়ী আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলো প্রদর্শিত হবে। কিছু কিছু ওয়েবসাইট থিম রয়েছে যেগুলো ডেক্সটপ বা পিসিতে খুব ভালো দেখা গেলেও মোবাইল বা ট্যাবলেট ডিভাইস গুলোতে উক্ত থিমগুলোর মার্জিন ব্রেক হয়ে যায় অর্থাৎ মেনু থেকে শুরু করে কনটেন্ট গুলো ডিভাইস এর রেজুলেশন অনুযায়ী ঠিকভাবে কাজ করে না।

অর্থাৎ রেসপনসিভ ওয়েবসাইট থিম আপনার ডিভাইসের রেজুলেশন অনুযায়ী আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে সুন্দরভাবে প্রদর্শিত করবে। বর্তমানে মার্কেটে প্রায় 90 ভাগ থিম রেসপনসিভ হয়ে থাকে। তবুও থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেখে নেবেন এটি রেস্পন্সিভ কিনা।

ইউজার ফ্রেন্ডলি থিম

আপনার নির্বাচিত ওয়েবসাইট থিমটি অবশ্যই ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে হবে। নতুবা কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজিং করার সময় স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে না এবং তার কনটেন্ট খুঁজে পেতে খুবই অসুবিধা হবে। এটা একটি বিরক্তিকর বিষয় যা আপনার সাইটের ট্রাফিক কমিয়ে দিতে পারে এবং আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের প্রতি ভিজিটরদের একটি বিরূপ মনোভাব তৈরি হতে পারে।

ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখবেন থিমের মেনুর পজিশন এবং আর্টিকেল প্রদর্শনীর ধরণ কিরূপ, এছাড়া কত সহজ ভাবে অন্যান্য রিলেটেড আর্টিকেলগুলো থিম এর মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে। একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি থিম আপনার সাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ভিজিটরদের মধ্যে একটি পজিটিভ ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করে।

পেইড নাকি ফ্রি থিম

ব্লগিং শুরু করার পর ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য ফ্রি থিম বা Templates ব্যবহার করবেন নাকি পেইড থিম ব্যবহার করবেন এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগে থাকে। তবে “Adsence Approval” এর ক্ষেত্রে পেইড বা ফ্রি থিম তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ যে কোন ফ্রি থিম ব্যবহার করার মাধ্যমেও “Adsence Approval” নিতে পারেন। তবে ফ্রি থিমের চেয়ে পেইড ভার্সন এর থিমগুলোর পেজ লোডিং স্পীড একটু বেশি হয়ে থাকে।

কেননা ফ্রি থিমের অনেক স্ক্রিপ্ট লক করা থাকে যা আপনি এডিট বা কোন প্রকার সংশোধন করতে পারবেন না আর উক্ত এনক্রিপটেড স্ক্রিপ্ট গুলোর জন্য ফ্রি থিম এর লোডিং স্পীড একটু কম হয়ে থাকে। অপরদিকে পেইড থিমে কোন প্রকার স্ক্রিপ্ট এনক্রিপটেড বা লক করা থাকে না,যার জন্য পেইড থিম গুলো খুব দ্রুত লোড হয়। তাই সার্চ ইঞ্জিন রাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে পেজ স্পিড অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

থিমের আর্টিকেল মার্জিন

ওয়েবসাইট থিম বা টেম্পলেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আর্টিকেল মার্জিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর্টিকেল মার্জিন হচ্ছে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের আর্টিকেলগুলো কেমন স্ক্রিন রেজুলেশনে প্রদর্শিত হচ্ছে। থিমের আর্টিকেল রেজুলেশন সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পেতে নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।

ওয়েবসাইট থিম
ওয়েবসাইট থিম মার্জিন

উপরের ছবিটিতে লক্ষ্য করুন এখানে দুইটি থিমের আর্টিকেল দেখানো হয়েছে। Cleanify থিমটিতে আর্টিকেল এর মার্জিন গ্যাপ অনেক বেশি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আর্টিকেলটির ডান সাইড এবং বাম সাইডের উভয়দিকে কতখানি স্পেস বাদ পড়ে আছে। এবং আর্টিকেলটি স্ক্রিনের মাঝ বরাবর প্রদর্শিত হচ্ছে। এ ধরনের আর্টিকেল ট্রাভেল ব্লগ এবং পার্সোনাল ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ব্লগের আর্টিকেল টিউটোরিয়াল বা পরিসংখ্যান সম্পর্কিত হলে তথ্যগুলো এলোমেলো ভাবে প্রদর্শিত হয়ে থাকে।

আবার উপরের ছবিটিতে ডানপাশে “Galaxy mag” থিমটিতে লক্ষ্য করুন প্রথম থিমটির তুলনায় সেখানে মার্জিন গ্যাপ নেই বললেই চলে আর থাকলেও অতি সামান্য। এই ধরনের থিম স্ট্রাকচার সব ধরনের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য উপযুক্ত। তাই ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে মার্জিন গ্যাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

থিম লোডিং স্পীড

সঠিক ওয়েবসাইট থিম বা টেম্পলেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে থিম লোডিং স্পীড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার থিমের লোডিং স্পিড যত বেশি হবে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে রেংকিং এ ততবেশি সুবিধা পাবেন এবং ততো দ্রুত সার্চ রেংকিং এ আসবে। একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের রেংকিং তার সাইট বা পেইজ স্পিড এর উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। Google-এর বর্তমান অ্যালগরিদম অনুযায়ী যে কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য পেজ স্পিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গুগোল ব্লগার এ ওয়ার্ডপ্রেস এর মতো প্লাগিন ব্যবহার করা যায় না, যেখানে ওয়ার্ডপ্রেসে বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে আপনার সাইট এর পেজ স্পিড বৃদ্ধি করতে পারেন, অপরদিকে ব্লগারে কোন প্রকার প্লাগিন না থাকার কারণে সাইট স্পিড এর জন্য “Image Optimization” এর পাশাপাশি থিম এর উপর নির্ভর করতে হয়।

আপনার ব্লগ বা ওয়েব সাইটের পেজ স্পিড কিরূপ এবং কোন কোন স্থানে Improvement করতে হবে তার বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। এটি গুগলের নিজস্ব পেজ স্পিড নিরীক্ষণের সুবিধা।
যেকোনো মার্কেটপ্লেস থেকে থিম ক্রয় বা ফ্রি ডাউনলোড করার পূর্বে সেখানে প্রত্যেকটি থীমের লোডিং স্পীড কত সেটা দেওয়া থাকে, তাছাড়া আপনি উক্ত থিমের লাইভ প্রিভিউ লিংকটি কপি করে Page Speed Insights এ পেস্ট করে Analyze এ ক্লিক করলে উক্ত থিমের পেজ স্পিড কীরূপ গুগোল দেখিয়ে দিবে।

কাস্টমাইজেশন সুবিধা

একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে প্রফেশনাল লুক দিতে হলে আপনাকে অবশ্যই সাইটটি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজ করতে হবে। আর ফ্রি থিম পুরোপুরিভাবে কাস্টমাইজ করা যায় না যার জন্য আপনাকে যেকোনো মার্কেটপ্লেস থেকে আপনার পছন্দের থিম এর পেইড ভার্সন ক্রয় করতে হবে। পেইড থিম ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট পুরোপুরি কাস্টমাইজ করতে পারবেন এবং আপনার সাইটে যেকোনো স্থানে এড শো করাতে পারবেন যেটা ফ্রী ভার্সনে সম্ভব নয়।

ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে সকল সর্তকতা অবলম্বন করবেন

GPL এবং ক্রাক থিম

GPL বা জি পি এল এর পূর্ণ শব্দ হচ্ছে: General Public License। জিপিএল থিম হচ্ছে কোন একটি থিমের পেইড ভার্সনের ওপেনসোর্স ভার্সন। সকল থিম কোম্পানি তাদের থিম গুলোকে জিপিএল এর আন্ডারে গ্রহণ করে না। তাই যে কোন পেইড থিম এর জিপিএল ভার্সন ব্যবহার করার পূর্বে উক্ত কোম্পানি জিপিএল লাইসেন্স ব্যবহারে অনুমতি দেয় কিনা সেটা লক্ষ্য রাখবেন। যদি কোন থিম কোম্পানি তাদের থিম জিপিএল এর মাধ্যমে ব্যবহার করার অনুমতি না দেয় তাহলে সেই কোম্পানির থিমের জিপিএল ভার্শন ব্যবহার করবেন না। নতুবা উক্ত কোম্পানি আপনার সাইটের বিরুদ্ধে ক্লেইম করতে পারে।

অপরদিকে ক্রাক থিম বা Templates হচ্ছে যে কোন পেইড ভার্সন থিমের ক্রাক ভার্শন। আমাদের দেশে সচরাচর যেমন আমরা লাইসেন্স কি ছাড়া উইন্ডোজ বা অন্যান্য সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকি ঠিক তেমনি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের পেইড ভার্সন থিমগুলোর ক্রাক ভার্সন রয়েছে। অনেক ডেভলপার পেইড ভার্সন থিমগুলোর GPL এবং ক্রাক ভার্শন তৈরীর সময় তাদের এড কোড ব্যবহার করে থাকে বা তাদের এড/Ad এর এইচটিএমএল কোড ইনপুট করে দেয় যার জন্য উক্ত ক্রাক ভার্শন থিম গুলো ব্যবহার করার পর সাইটে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় এবং উক্ত বিজ্ঞাপনগুলোর জন্য সেই ডেভলপার টাকা পাবে, যা আপনার সাইটের রেভিনিউ কমিয়ে দিতে পারে।

এছাড়া ক্রাক ভার্শন থিম ব্যবহারের অন্যতম অসুবিধা হচ্ছে, আপনার গুগল এডসেন্স ডিজেবল হয়ে যেতে পারে। আর একবার গুগল এডসেন্স ডিজেবল হলে সেটা সংশোধন করা খুবই কষ্টকর, এবং সংশোধন করা গেলেও তাতে Ad limit যুক্ত হয়ে যায়, যার জন্য আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ইচ্ছামত এড/Ad প্রদর্শন করতে পারবেন না।

আরো পড়ুন –
ওয়েবসাইট ব্লগে GPL থিমস প্লাগিন ব্যবহার করা কতটুকু নিরাপদ?

ব্লগারে থিম যুক্ত করন

কিভাবে ব্লগারে থিম পরিবর্তন, নতুন থিম যুক্ত এবং থিম কাস্টমাইজেশন করবেন তা জানতে এখানে ক্লিক করে সোহাগ ভাই এর ভিডিও গুলো দেখতে পারেন।

ব্লগিং-এর সিরিজ পর্বের আজকের পর্বে আপনারা জানতে পারলেন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য থিম বা টেম্পলেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় সমূহ কি কি?

ওয়ার্ডপ্রেস এর মতো প্লাগিন না থাকায় ব্লগারের বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি সম্পাদন করতে হয়। ঠিক তেমনি আপনার ব্লগ সাইট সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করার জন্য ব্লগারের সেটিংস অপশনটি অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

আপনি যদি বিনা মূল্যে বা খুবই কম মূল্যে ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেসের প্রিমিয়াম থিম কিনতে চান তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিম্নোক্ত থিম বা টেম্পলেট গুলো আমাদের কাছে Available রয়েছে। উল্লেখ্য নিম্নোক্ত সব গুলো থিম আমাদের নিজেদের ক্রয় করা।

ব্লগার টেমপ্লেট

ওয়েবসাইট থিম

NewspaperX খুবই জনপ্রিয় ওয়ার্ডপ্রেস থিম মাত্র 2000 টাকা মূল্যে আমাদের নিকট থেকে ক্রয় করতে পারেন। আমরা ফুল ডকুমেন্টেশন সহ অ্যাক্টিভেশন কি প্রদান করব। এটি কোন প্রকার GPL বা ক্রাক থিম নয়। আমাদের ওয়েবসাইটে যে থিমটি দেখতে পাচ্ছেন এটি-ই প্রদান করা হবে।

Share this

2 thoughts on “ব্লগ বা ওয়েবসাইট থিম নির্বাচনে ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় সমুহ।”

    • আপনার মুল্যবান মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ 🙂
      অনুগ্রহ করে আপনার পছন্দের থিমটি বাছাই করে, আমাদের ফেইসবুক পেজে যোগাযোগ করুন।

      Reply

Leave a Comment