ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার সেরা কিছু সাইট বা Backlink কিভাবে করে?

নতুন ব্লগারদের জন্য ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করা এবং Backlink কিভাবে করে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আজকের এই আর্টিকেল।

ব্যাকলিংকের আজকের দ্বীতিয় পর্বে আলোচনা করবো ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার সেরা কিছু সাইট সম্পর্কে।

এসইও এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন প্রশ্ন এবং আকঙ্খা থাকে সঠিক ব্যাকলিংকের সন্ধান করা। কিভাবে ভালো ভালো সাইট থেকে ব্যাকলিংক পাওয়া যাবে এবং নিজের সাইটকে কিভাবে গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসা যাবে।

এক নজরে আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু –

ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার সেরা কিছু সাইট সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ন কথা।

আসলে আমাদের মধ্যে যারা নতুন ব্লগার তাদের এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পড়তে হয়। যদিও আমি আপনাকে ব্যাকলিংকের পিছনে ছুটতে বলবো না। কেননা, আপনার সাইটের কন্টেন্ট যদি ভালো এবং মানসম্মত হয় তাহলে ভালো ভালো ওয়েবসাইট গুলো নিজে থেকেই আপনার সাইটকে তাদের সাইটের সাথে যুক্ত করবে। যেখান থেকে বিনা পরিশ্রমে আপনি আপনার সাইটের জন্য ব্যাকলিংক জেনারেট করতে পারবেন।

অন্যদিকে আপনার সাইটের কন্টেন্ট যদি ভালো বা মানসম্মত না হয় তাহলে কোন হাই অথরিটি সম্পন্ন সাইটগুলো তাদের সাথে আপনার সাইটকে কখনই কানেক্ট করবে না।

আর আপনার সাইটটি যদি নতুন হয়ে থাকে তাহলে তো কোন সাইটই নিজে থেকে আপনাকে ব্যাকলিংক দিবে না। তাই প্রথম দিকে আপনাকে সামান্য ক্রিয়েটিভ হয়ে নিজে থেকে কিছু ব্যাকলিংক করতে হবে। তা না হয়ে সয়ং গুগলও আপনাকে র‌্যাংকিং এ আনবে ন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি ব্যাকলিংকের কিছু ভেরিফাইড সোর্স সম্পর্কে আলোচনা করবো। তবে মনে রাখবেন, ব্যাকলিংকের কেবল ওয়েবসাইট বা সোর্স জানা গুরুত্বপূর্ন নয়। বরং কিভাবে বা কোন প্রসেসে ব্যাকলিংক করতে হবে সেটা জানাও গুরুত্বপূর্ন।

কেননা, আপনি যদি কেবল ভালো ভালো ওয়েবসাইট থেকে ভুল প্রসেসে ব্যাকলিংক তৈরি করেন তাহলে উক্ত ব্যাকলিংক আপনার সাইটের জন্য কোন কাজেই আসবে না।

ইউটিউব ব্যাকলিংক

জ্বী হ্যা ঠিকই দেখছেন, ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইউটিউব ব্যাকলিংক।

প্রচুর সংখ্যাক ট্রাফিক, হাই অথোরিটি এবং গুগলের নিজের ওয়েবসাইট ইউটিউব থেকে ব্যাকলিংক যে কোন সাইটের জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে, অন্যের ভিডিও তে কমেন্ট করে বা আপনার নিজের চ্যানেলের ভিডিও গুলোর ডিসক্রিপশনে আপনার সাইটের লিংক ব্যবহার করে কখনই ইউটিউব থেকে ব্যাকলিংক পাবেন না। শুধু তাই নয়, আপনার চ্যানেলের About us সেকশনে বা চ্যানেলে কাষ্টমাইজেশনে লিংক যুক্ত করে ও আপনি ইউটিউব থেকে ব্যাকলিংক পাবেন না।

তবে তার মানে এই না যে, আপনার চ্যানেলের About us সেকশনে আপনার সাইটের লিংক দেওয়া ঠিক হবে না। অবশ্যই দিবেন, কেননা, এতে করে আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রচুর সংখ্যাক ট্রাফিক জেনারেট করতে পারবেন।

এবার আসা যাক, ইউটিউব থেকে কিভাবে আপনি ব্যাকলিংক পাবেন। আপনার চ্যানেলের যে ভিডিওটি আপনি চ্যানেল ট্রায়লার হিসাবে ব্যবহার করবেন কেলব মাত্র সেই ভিডিওটির ডিসক্রিপশনে আপনার সাইটের লিংক ব্যবহার করার মাধ্যমেই সেটা গুগল আপনার সাইটের ব্যাকলিংক হিসাবে কাউন্ট করবে।

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের হোম পেজ আপনার জন্য একটি প্রোফাইল হিসাবে কাজ করে থাকে। আর গুগল আপনার চ্যানেলের ট্রায়লার ভিডিও এর ডিসক্রিপশনে ব্যবহৃত লিংককেই কেবল মাত্র ব্যাকলিংক হিসাবে কাউন্ট করেবে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি আপনার চ্যানেলের ট্রায়লার ভিডিও যুক্ত করবেন।

  • Go to your YouTube Channel home page.
  • Click “CUSTOMIZE CHANNEL
  • এখানে আপনি দুইটি আপশন দেখতে পাবেন –
  • “For Returning Subscribers” এবং “For New Visitors”
  • For Returning Subscribers এ আপনি যে ভিডিওটি যুক্ত করবেন সেটা আপনার চ্যানেলের ফিচার্ড কন্টেন্ট হিসাবে কাজ করবে।
  • এবং, For New Visitors এ আপনি যে ভিডিওটি যুক্ত করবেন সেই ভিডিওটিই আপনার চ্যানেলের ট্রায়লার ভিডিও হিসাবে কাজ করবে।

তবে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন। আপনি যে কোন ধরনের ভিডিও আপনার চ্যানেলের ট্রায়লার হিসাবে ব্যবহার করবেন না। কেননা আপনার ট্রায়লার ভিডিওটি যদি অপ্রাসংগিক হয় বা তেমন কোন ভিউ না থাকে তাহলে গুগল আপনার সেই ভিডিওটি ইনডেক্স করবে না। অর্থাৎ আপনি সেই ভিডিও থেকে কোন ব্যাকলিংক পাবেন না।

সুতরাং, আপনার চ্যানেল ট্রায়লারে ব্যবহৃত ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন এবং বেশি বেশি এনগেজমেন্ট আনার চেষ্টা করুন।

যে কোন ব্লগ সাইটের জন্য ইউটিউব ব্যাকলিংক খুবই গুরুত্বপূর্ন। আর তাই একজন সচেতন ব্লগার হিসাবে কখনই ইউটিউব ব্যাকলিংক ইগনোর করা উচিৎ নয়।

ফ্রি ছবি ডাউনলোড বা স্টক ফটোগ্রাফি সাইট থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম

ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার ক্ষেত্রে সেরা সাইট গুলোর মধ্যে রয়েছে স্টক ফটোগ্রাফী সাইট।

আমরা যারা ব্লগিং বা ইউটিউব পেশার সাথে জড়িত তাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি নাম ফ্রী স্টক ফটোগ্রাফী সাইট। ফ্রি ছবি ডাউনলোড করার অনেক গুলো ওয়েবসাইট রয়েছে। যেমন –

শুধু তাই নয়। ফ্রী স্টক ফটোগ্রাফী সাইট ছাড়াও আরো অনেক পেইড ফটোগ্রাফি সাইট রয়েছে যেখানে আপনি কন্ট্রিবিউটর হিসাবে যোগ দিয়ে অনলাইনে ছবি বিক্রি করতে পারেন। আর মজার বিষয় হলো এই সব ফ্রী বা পেইড ফটোগ্রাফী সাইট গুলো আপনাকে আপনার একাউন্ট এর সাথে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করারও অপশন দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন –

সুতরাং সেখানে একাউন্ট তৈরি করে ভালো মানের কিছু ছবি আপলোড করে এবং প্রোফাইলের সাথে আপনার সাইটের লিংক যুক্ত করার মাধ্যমে খুব সহজেই ব্যাকলিংক জেনারেট করতে পারেন।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় এবং ফ্রি ব্যাকলিংক নেওয়ার জনপ্রিয় আরো কিছু ওয়েবসাইট গুলো হলো –

তাহলে দেরি না করে উক্ত পেইড স্টক ফটোগ্রাফি সাইট গুলোতে একাউন্ট তৈরি করে সেখানে আপনার ছবি বিক্রি করে ইনকামের পাশাপাশি আপনার সাইটের জন্য ভালো মানের ব্যাকলিংক তৈরি করে নিন।

অথবা, Pixabay, Pexels এবং Unsplash এর মতো ফ্রি ছবি ডাউনলোড করার ওয়েবসাইট গুলোতেও একাউন্ট তৈরি করে ভালো মানের ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারেন।

তবে এই সকল স্টক ফটোগ্রাফি সাইট গুলোতে কেবল একাউন্ট তৈরি করে সাইট এর লিংক যুক্ত করে রাখবেন না। সাথে অল্প সল্প ভালো রেজুলেশনের ও কিছু ছবি আপলোড করবেন। এতে করে আপনার সাইটের ব্যাকলিংক এর পাশাপাশি প্রচুর ফ্রি ট্রাফিক জেনারেট করতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যাকলিংক তৈরি করার একটি সোর্স হিসাবে অবিহিত করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে কে তাই?

কারন আমরা জানি যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া ব্যাকলিংক সর্বদা নো ফলো হিসাবে কাউন্ট হয়ে থাকে। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া ব্যাকলিংক কিভাবে আপনার সাইটের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করবে? কিন্তু এখানেও অনেক গুলো বিষয় নির্ভর করে।

তাহলে চলুন আলোচনা করা যাক, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কি আদৌ ব্যাকলিংক পাওয়া যায়? আর পাওয়া গেলে ও সেটা কিভাবে?

= পিন্টারেস্ট থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম =

পিন্টারেস্ট থেকে ফ্রি ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য প্রথমে আপনাকে সেখানে একাউন্ট তৈরি করতে হবে।

ব্যাকলিংক তৈরি করা

অতঃপর আপনার একাউন্টের Account Settings এ গিয়ে Claim অপশনে ক্লিক করুন। এখানে উপরের ছবির ন্যায় আপনার ডোমেইনটি টাইপ করুন এবং Claim বাটনে ক্লিক করুন।

ফ্রিওত ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম

এরপর উপরের ছবির ন্যায় একটি পেজ প্রদর্শিত হবে। এখানে Add HTML tag সিলেক্ট করুন। এখানে আপনাকে একটি HTML tag দেওয়া হবে। উক্ত কোডটি আপনার সাইটের থিম এডিটরের <header> সেকশনে যুক্ত করুন অতপর Next বাটনে ক্লিক করুন।

এখন আপনি যদি ব্লগার প্লাটফর্ম ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ব্লগার এর হোম পেজ থেকে Theme > Edit HTML অপশনে গিয়ে সেকশনে পিন্টারেস্ট থেকে দেওয়া HTML tag টি পেষ্ট করুন, অতঃপর Save বাটনে ক্লিক করুন।

  • Go to Blogger select the Theme option
  • Select Edit HTML
  • Find Header section and pest pinterest html tag and save it.

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারী হন তাহলে নিচের নির্দেশনা অনুসরন করুন –

> Go to WordPress Dashboard
> Appearance
> Editor
> Theme Header (header php)
> অতঃপর  <head> সেকশনে পিন্টারেস্ট
থেকে দেওয়া HTML tag টি পেষ্ট করুন  এবং
Update File বাটনে  ক্লিক করুন।

= কোরা থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম =

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্যাকলিংক নেওয়ার বিষয়ে কথা হবে আর কোরা এর নাম আসবে না সেটা তো হতেই পারেনা। কেননা বর্তমান নতুন প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো কোরা। আর কোরা থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করাও তুলনামূলক অনেক সহজ।

কোরা মূলত একটি প্রশ্ন-উত্তর সাইট। সকল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া ব্যাকলিংক সর্বদা নো ফলো হয়ে থাকে এবং কোরা ও এর বাইরে নয়।

কিন্তু গুগল সাম্প্রতি এনাউন্স করেছে যে, ডু ফলো বা নো ফলো ট্যাগ গুরুত্বপূর্ন নয় বরং গুগলই সিদ্ধান্ত নিবে কোন সাইট থেকে পাওয়া ব্যাকলিংক পেজ র‌্যাংক পাস করবে কিনা।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এখন আর নো ফলো এবং ডু ফলো ব্যাকলিংক এর গল্প খুব একটা কাজে আসবে না। আর যেহেতু গুগলই সিদ্ধান্ত নিবে কোন সাইট এর ব্যাকলিংক তারা কাউন্ট করবে নাকি করবে না তাই কোরা আপনার জন্য ট্রাফিক এবং ব্যাকলিংক দুটিই জেনারেট করতে পারে।

আমাদের সবারই একটি ধারনা যে, নো ফলো ব্যাকলিংক কোন কাজেই আসে না। কিন্তু বিষয়টা মোটেও এমন নয়। কেননা, আপনার সাইট ধীরে ধীরে যত বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে সেই সাথে আপনার সাইটের নো ফলো ব্যাকলিংক ও বৃদ্ধি পাবে। বুঝতেই পারছেন নো ফলো ব্যাকলিংক একে বারে মূল্যহীন নয়।

তবে কোরা থেকে ব্যাকলিংক এর জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি সিস্টেম অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তাহলে চলুন আলোচনা করা যাক কোরাকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে আপনি ব্যাকলিংক এবং ট্রাফিক দুটিই জেনারেট করতে পারবেন।

প্রথমত, কোরাতে আপনার তৈরিকৃত প্রোফাইলটি অবশ্যই পার্সোনাল হতে হবে। যেমন কোন প্রকার ছদ্মনাম বা কোম্পানি নাম দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করবেন না। শুধু তাই নয় কোরা নিজেও ছদ্মনাম বা কোম্পানি নামে প্রোফাইল সমর্থন করে না। সুতরাং কোরাকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রথমে আপনার প্রোফাইলটি অবশ্যই পার্সোনাল হতে হবে।

দ্বীতিয়ত, কখনই কোন প্রশ্নের অর্ধেক উত্তর দিবেন না। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা কোন একটি প্রশ্নের অর্ধেক উত্তর দিয়ে এবং উত্তরের শেষে তার সাইটের লিংক যুক্ত করে বলে সম্পূর্ন পড়ার জন্য আমার সাইট ভিজিট করুন। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হতে পারে এতে আপনার লিংকের ক্লিক সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু বিষয়টা মোটেও এমন নয়। বরং এতে করে পাঠকদের কাছে আপনার প্রোফাইল সম্পর্কে একটি নেগেটিভ চিন্তা ধারা তৈরি হতে পারে।

সুতরাং আপনি চাইলে কোরাতে আপনার উত্তরের শুরুতে আপনার সাইটের লিংক ব্যবহার করে এটা বলে দিতে পারেন যে, “এই উত্তরটি আরো বিস্তারিত ভাবে আমর সাইটে আলোচনা করা হয়েছে এবং আপনি চাইলে সেটা দেখে আসতে পারেন।

এতে করে পাঠকদের নিকট আপনার প্রোফাইল সম্পর্কে একটি পজিটিভ ধারনা তৈরি হবে। যার প্রভার স্বাভাবিক ভাবেই আপনার সাইটেও পড়বে।

কোরাকে প্রাধন্য দেওয়ার অন্যতম একটি কারন হলো, যেহেতু গুগল নিজেই ডিসাইড করবে কোন সাইটের ব্যাকলিংক আপনার জন্য পেজ র‌্যাংক পাস করবে কিনা তাই কোরা আপনার জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি প্লাটফর্ম হতে পারে। কেননা, ফেসবুক এর মতো কোরাতে স্প্যামিং করার সম্ভাবনা খুবই কম আর গুগল সেটা খুব ভালো করেই জানে।

= ফেসবুক থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম =

সোশ্যাল মিডিয়ার কথা হবে আর ফেসবুকের নাম আসবে না সেটাতো হতেই পারে না। তবে দুঃখের বিষয় হলেও এটাই সত্যি যে ফেসবুক থেকে কোন প্রকার ব্যাকলিংক তৈরি করা যায় না।

এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ফেসবুকের কথা কেন বলছি।

দেখুন ব্যাকলিংক একটি সাইটের জন্য বিভিন্ন ভাবে কাজ করতে পারে। যেমন তা সরাসরি পেজ র‌্যাংক পাস করে আবার আপনার সাইটের জনপ্রিয়তা বা ট্রাফিক বৃদ্ধি করে।

ফেসবুক আপনাকে সরাসরি ব্যাকলিংক প্রদান না করলে ও আপনার সাইটের কন্টেন্ট গুলোকে সঠিক অডিয়েন্স এর নিকট পৌছে দিতে ফেসবুকের বিকল্প নেই।

আমি আগেই বলেছি আপনার কন্টেন্টের দিকে ফোকাস করুন। কেননা আপনার সাইটে যদি মানসম্মত আর্টিকেল থাকে তাহলে অন্যরা নিজে থেকেই আপনার সাইটটি তাদের সাইটের সাথে কানেক্ট করবে।

আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং করছেন সেই বিষয়ের অডিয়েন্স এর কাছে আপনার আর্টিকেল গুলো পৌছে দিতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা পালন করবে ফেসবুক। আপনার ব্লগের নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ বা পেজ তৈরি করে সেখানে আপনার পোষ্ট গুলো শেয়ার করুন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি কেবল আপনার সাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে পারবেন তাই নয়। একই সাথে আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার সাইটের ডিরেক্ট বা রেফারাল ট্রাফিক ও বৃদ্ধি করতে পারবেন। যা আপনার সাইটের ডোমেইন অথরিটিকে বৃদ্ধি করবে।

Google my business – গুগল মাই বিজনেস

Google my business বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয় এবং ট্রেন্ডিং টপিক গুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে আপনি আপনার লোকাল বিজনেস যুক্ত করাম মাধ্যমে একটি ফ্রি ওয়েবসাইট যুক্ত করার সুবিধা পাবেন।

তবে চিন্তার কোন কারন নেই। আপনার যদি নিজের কোন লোকাল বিজনেস নাও থাকে তাহলে আপনার আশে পাশে বা আপনার পরিচিত যে কারো লোকাল বিজনেস Google my business এ যুক্ত করতে পারেন। এবং সেখানে Website অপশন এর মধ্যে Summery body নামের আরো একটি অপশন দেখতে পাবেন যেখানে হাইপার লিংকের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগ সাইটের লিংক যুক্ত করে সেখান থেকে খুব সহজেই ব্যাকলিংক জেনারেট করতে পারবেন।

Google my business থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য নিচের নির্দেশনা অনুসরন করুন –

  • Go to Google My Business and select your business.
  • Go to Website option
  • Select Text option
  • Here You will find Summery body option – এখানে যে কোন টেক্সট লিখে সেখানে হাইপার লিংকের মাধ্যমে আপনার সাইটের লিংক যুক্ত করে দিন।

তবে যে কোন লোকাল বিজনেস এর সাথে আপনার ব্লগ সাইটটি ব্যাকলিংকের জন্য যুক্ত করবেন না। অবশ্যই রিলেভেন্সির দিকে নজর রাখবেন। যেমন, আপনার সাইটটি যদি প্রযুক্তি বিষয়ক হয় তাহলে অবশ্যই মুদির দোকনের কোন লোকাল বিজনেস এর সাথে আপনার সাইটটি কানেক্ট করবেন না। এক্ষেত্রে আপনি কম্পিউটার বিষয়ক বা অনলাইন আয় / ফ্রিলান্স বিষয়ক লোকাল বিজনেস থেকে আপনার সাইটের জন্য ব্যাকলিংক নিতে পারেন।

Bing places for business – বিং প্লেসেসে ফর বিজনেস

ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য আরো একটি জনপ্রিয় সাইট হলো বিং। যদিও বিং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুবই কম। তবুও এটি গুগলের পরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্চ ইন্জিন। শুধু তাই নয় বর্তমান সময়ে বিং নিজে থেকেই ব্যাকলিংকের জন্য আহব্বান করছে।

গুগল মাই বিজনেস এর মতো বিং প্লেসে ও বিজনেস এর একটি অপশন রয়েছে। যেখানে আপনি আপনার লোকাল বিজনেস এর লিস্টিং তৈরি করার সুবিধা পেতে পারেন।

আপনার যদি নিজের কোন লোকাল বিজনেস নাও থাকে তাহলে গুগল মাই বিজনেস এর মতো আপনার পরিচিত যে কারো লোকাল বিজনেস বিং প্লেসে যুক্ত করে সেখানে থেকে ব্যাকলিংক নিতে পারেন।

উইকিপিডিয়া থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম

দুনিয়াতে ৯তম র‌্যাংকিং সাইট থেকে কে ব্যাকলিংক নিতে চাইবে না? জ্বী হ্যা, খুব সহজেই এবং কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই উইকিপিডিয়া থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করা যায় যদি আপনার স্ট্রাটেজি ঠিক থাকে।

স্ট্রাটিজির কথা এই জন্য বলা হচ্ছে যে, প্রথমে আপনাকে দেখতে হবে আপনার সাইটের জন্য উইকিপিডিয়ার ব্যাকলিংক নেওয়া ঠিক হবে কি না।

প্রথমত, আপনি যে বিষয়ে বা যে কিওয়ার্ড এর উপর আর্টিকেল লিখছেন সেই কিওয়ার্ডটি লিখে গুগলে সার্চ করুন এবং দেখুন সার্চ রেজাল্টের টপ ১০ পজিশনে উইকিপিডিয়ার কোন ফলাফল দেখাচ্ছে কি না।

যদি এমন কোন ফলাফল দেখায় তাহলে আপনি খুব সহজেই উইকিপিডিয়াতে এডিটর একাউন্ট তৈরি করে উক্ত বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখে আপনার সাইটের লিংক যুক্ত করে দিতে পারেন।

তবে উইকিপিডিয়াতে কেবল মাত্র আর্টিকেল লিখে লিংক যুক্ত করার মাধ্যমেই আপনি উইকিপিডিয়া থেকে ব্যাকলিংক পেয়ে যাবেন না। আপনার আর্টিকেলটি যখন অ্যাপ্রুভ হবে কেবল তখনই আপনি উইকিপিডিয়া থেকে একটি ভ্যালুয়াবেল ব্যাকলিংক পাবেন।

আর উইকিপিডিয়াতে তখনই আপনার আর্টিকেলটি কাউন্ট হবে যখন আপনার আর্টিকেলটি যথাযথ প্রাসঙ্গিক এবং সঠিক তথ্য সমৃদ্ধ হবে।

=শেষ কথা=

পরিশেষে একটি কথাই বলবো, আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং ভালো কয়েকটি ব্লগ কি কি?

তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার জানা মতে কয়েকটি ব্লগ সাইটের নাম বলে দিবেন। দেখুন এটাই হলো ব্যাকলিংক। কেননা, আপনি যখন বাংলাদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় সাইট সম্পর্কে আর্টিকেল লিখবেন তখন যে সাইট গুলোর লিংক আপনার সাইটে মেনশন করবেন তারা কিছু না করেই আপনার সাইট থেকে ব্যাকলিংক পাবে।

এর কারন এটাই, যে সাইট গুলোকে আপনি মেনশন করবেন তাদের কন্টেন্ট অবশ্যই আপনার ভালো লেগেছে। যার দরুন আপনি জনপ্রিয় এবং ভালো ব্লগ সাইটের জন্য তাদের মেনশন করেছেন।

সুতরাং, যথাসম্ভব নিজের আর্টিকেলের দিকে ফোকাস করুন। আপনার সাইটের কন্টেন্ট ভালো হলে অন্যরা ও আপনার সাইটকে তাদের সাইটের সাথে কানেক্ট করবে এবং আপনি ব্যাকলিংক পাবেন।

তবে প্রাথমিক বা নতুন অবস্থায় সবার নজরে আসতেও আপনাকে শুরুতে নিজের থেকে কিছু ব্যাকলিংক করতে হবে। না হলে কখনোই গুগলের সার্চ রেজাল্টে জায়গা করে নিতে পারবেন না।
আর তাই, নতুনদের জন্য বা নতুন ব্লগ সাইটের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার সেরা কিছু সাইট সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করা হলো।

Share this

8 thoughts on “ফ্রিতে ব্যাকলিংক তৈরি করার সেরা কিছু সাইট বা Backlink কিভাবে করে?”

  1. I learned a lot of things, that are new for me.
    Thank you, Jahirul Islam. I should read this article one more time.
    Shakia Shahrin.

    Reply
  2. লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। ফ্রিতে ব্যাংকলিংক তৈরি করার চমৎকার কিছু পদ্ধতির উল্লেখ করা হয়েছে। ধন্যবাদ, সহজ ভাষায় দক্ষতার সাথে শেয়ার করার জন্য।

    Reply
  3. আমি আমার ইংরেজীতে একটি ইডুকেশনাল সাইটের জন্য উইকিপিডিয়ায় একটি আর্টিক্যাল সাবমিটের চিন্তা করছি। নতুন তথ্যবহুল ধারণা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

    Reply
  4. আপনার লেখাটি অনেক ভালো হয়েছে । এতে অনেকে উপকৃত হবে । আশা করছি আগামিতে আপনি আরও অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা উপহার দিবেন । আমার একটি নিউজ রিলেটেড ব্লগ সাইট আছে । https://roadtohelp787.com এই সাইটে ঘুরে দেখার জন্য নিমন্ত্রন রইল । ধন্যবাদ ।।

    Reply

Leave a Comment