হোস্টিং কি? কত প্রকার? হোস্টিং কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়।

ওয়েবসাইট খুঁটিনাটির দ্বিতীয় পর্বে আজ আলোচনা করব – হোস্টিং কি? হোস্টিং কত প্রকার? এবং হোস্টিং কেনার আগে বিবেচ্য বিষয় সমূহ কি কি?

আপনি যদি আমাদের ডোমেইন খুঁটিনাটি সম্পর্কিত আর্টিকেলটি পড়ে না থাকেন তাহলে সেটি আগে পড়ে নিতে পারেন।

ওয়েব হোস্টিংয়ের আজকের আর্টিকেলে রয়েছে:

হোস্টিং কি?

পূর্ববর্তী আর্টিকেল থেকে ডোমেইন সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই অবগত হয়েছি। এখন ডোমেইন এর পরেই আসে Hosting এর কথা। হোস্টিং হল মূলত একটি সার্ভার যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য এবং উপাত্তসমূহ সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ পূর্বের ন্যায় উদাহরণ স্বরূপ বোঝাতে গেলে, মনে করুন নিউমার্কেট একটি স্থানের নাম যেটা ডোমেইন এর সাথে তুলনা করা যায় এবং উক্ত নিউ মার্কেটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য সামগ্রীর ব্যবস্থাপনাকে হোস্টিং এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ আপনি ডোমেইন এর মত নিউ মার্কেট ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে উপস্থিত হলেন এবং হোস্টিং এর ন্যায় উক্ত নিউ মার্কেটের দোকানগুলো থেকে দ্রব্য-সামগ্রী আপনার সামনে প্রদর্শন করা হলো। অর্থাৎ ডোমেইন হলো একটি ঠিকানা এবং Hosting হলো একটি স্টোরেজ।

আপনি চাইলে আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসিকে Hosting সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে তার জন্য আপনাকে আপনার কম্পিউটারটি 24 ঘন্টা এবং বছরে 365 দিন চালু রাখতে হবে। সুতরাং আপনার কম্পিউটারটি যখন বন্ধ থাকবে তখন আপনার ওয়েবসাইটটিও বন্ধ থাকবে অর্থাৎ আপনার কম্পিউটার বন্ধ থাকার সময় কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবে না। কারণ মার্কেটের দোকানই যদি বন্ধ থাকে তাহলে ক্রেতা পণ্য দেখবে বা ক্রয় করবে কিভাবে।

যেহেতু আমাদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত কম্পিউটার গুলো 24 ঘন্টা এবং 365 দিন চলার মত ততটা শক্তিশালী নয় আবার লোডশেডিং জনিত একটি সমস্যা তো রয়েছেই। সুতরাং 24 ঘন্টা এবং 365 দিন চালু থাকে এমন কম্পিউটারের সুবিধা প্রদান করে থাকে হোস্টিং কোম্পানি গুলো। যারা মাসিক বা বাৎসরিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এই সার্ভিস প্রদান করে থাকে।

হোস্টিং কত প্রকার কি কি?

হোস্টিং কত প্রকার? – বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা এবং সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে Hosting প্যাকেজ গুলোকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-

  • Shared Hosting Server
  • VPS Hosting Server
  • Dedicated Hosting Server
  • Cloud Hosting Server
  • WordPress Hosting Server

Shared Hosting Server – শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভার

প্রথমে আলোচনা করা যাক শেয়ার্ড Hosting সম্পর্কে। Shared Hosting হচ্ছে এমন একটি Hosting সার্ভার। যেখানে একটি সার্ভার এর আওতায় অনেকগুলো ওয়েবসাইট বা গ্রাহক থাকে। মনে করুন পাঁচজন কাস্টমার কোন একটি কোম্পানির নিকট থেকে শেয়ার্ড হোস্টিং বা সার্ভার ক্রয় করল। তখন কোম্পানি একটি কম্পিউটার বা সার্ভার থেকে উক্ত পাঁচজন কাস্টমারকে কানেকশন প্রদান করবে। অর্থাৎ পাঁচজন কাস্টমার একটিমাত্র সার্ভার ব্যবহার করে তাদের ওয়েবসাইট গুলো পরিচালনা করবে।

এক্ষেত্রে উক্ত সার্ভারে থাকা Ram, Disk Storage, CPU উক্ত পাঁচজন কাস্টমার এর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে। এখন পরবর্তীতে যদি আরো চার থেকে পাঁচজন নতুন কাস্টমার শেয়ার্ড সার্ভার বা Shared Hosting ক্রয় করে তাহলে তাদের উক্ত কম্পিউটার বা সার্ভার থেকে কানেকশন প্রদান করা হবে। অর্থাৎ এখন আপনি দেখতে পাচ্ছেন প্রথমে শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভারে 5 জন কাস্টমার ছিল এখন অতিরিক্ত 4 থেকে 5 জন এসে যাওয়াই সেখানে কাস্টমার সংখ্যা প্রায় 10 জন হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত সার্ভারের ক্যাপাবিলিটি (Ram, Disk Storage, CPU) এখন দশজন কাস্টমার এর মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।

এখন মনে করুন উক্ত 10 জনের মধ্য থেকে যেকোনো 2 অথবা ৩ জনের ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসতে শুরু করল। সেই মুহূর্তে উক্ত ওয়েব সাইটগুলোতে অতিরিক্ত লোড পড়ার করার কারণে বাকি ছয় থেকে সাত জনের ওয়েবসাইটগুলো স্লো হয়ে যাবে। সুতরাং শেয়ার্ড সার্ভারের কোন একটি ওয়েবসাইটে যদি প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসে তাহলে সেই প্রভাব বাকি ওয়েবসাইট গুলোর উপরে পড়বে।

আরো পড়ুন
ওয়েবসাইটে ভিজিটর বা ট্রাফিক আনার উপায় ও কিছু সতর্কতা।

VPS Hosting Server – ভিপিএস হোস্টিং সার্ভার

VPS Hosting সার্ভার মূলত Shared Hosting সার্ভার এর মতই। এক্ষেত্রেও একটি সার্ভার অনেকগুলো গ্রাহক কে ভাগ করে দেয়া হয়। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে VPS Hosting সার্ভারের কম্পিউটার গুলো Shared Hosting সার্ভার এর কম্পিউটার থেকে অনেক বেশি পাওয়ারফুল হয়ে থাকে। মনে করুন যেখানে শেয়ার্ড Hosting সার্ভারের কম্পিউটারগুলোতে সাধারণত ১ জিবি Ram এবং ২-৪ কোরের সিপিইউ থাকে অপরদিকে ভিপিএস সার্ভারে 4-6 জিবি Ram থেকে শুরু করে ৮ কোরের সিপিইউ ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং এক্ষেত্রে ভিপিএস হোস্টিং সার্ভারে থাকা যেকোনো একটি বা দুটি সাইটে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসলে ও বাকি সাইটগুলো স্লো হয় না।

Dedicated Hosting Server – ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার

এখন কথা বলা যাক ডেডিকেটেড সার্ভার নিয়ে। নাম দেখেই বুঝতে পারছেন ডেডিকেটেড সার্ভার হচ্ছে মূলত একজন ব্যবহারকারী বা কাস্টমারের জন্য নির্ধারিত একটি সার্ভার। সুতরাং আপনি যখন ডেডিকেটেড সার্ভার ক্রয় করবেন তখন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি সার্ভার পুরোপুরিভাবে নির্ধারিত থাকবে। অর্থাৎ উক্ত সার্ভারে আর কোনো গ্রাহক বা ওয়েবসাইট থাকবে না। ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার গুলো একজন মাত্র কাস্টমারের জন্য নির্ধারিত করা থাকে।

Dedicated Hosting সার্ভারের অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার সাইটটি এক সেকেন্ডের জন্য ও বন্ধ থাকবে না বা স্লো হবে না। যে সমস্ত ওয়েবসাইটের ট্রাফিক অলরেডি অনেক বেশি থাকে এবং প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে ভিজিটর বৃদ্ধি পাচ্ছে সে ক্ষেত্রে Dedicated Hosting সার্ভার ব্যবহার করা হয়। ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার গুলোর মূল্য শেয়ার্ড সার্ভার এবং ভিপিএস সার্ভার থেকে অনেক বেশি হয়ে থাকে। তবে নতুনদের জন্য Dedicated Hosting সার্ভার এর কোনো প্রয়োজন নেই।

Cloud Hosting Server – ক্লাউড হোস্টিং সার্ভার

ক্লাউড হোস্টিং সার্ভার হলো এমন একটি সার্ভার যা বিভিন্ন কম্পিউটার এর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। Cloud Hosting এ থাকা ওয়েবসাইট এর যাবতীয় রিসোর্স বা তথ্যসমূহ ভিন্ন ভিন্ন ফিজিক্যাল সার্ভার গুলোতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। ফলে কোন একটি সার্ভার যেকোনো কারণে ডাউন থাকলে বা ক্র্যাশ করলে অন্যান্য সার্ভারগুলো থেকে উক্ত ওয়েবসাইটের তথ্য প্রদান করা হয়। অর্থাৎ ক্লাউড সার্ভারে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য-উপাত্ত কখনোই নষ্ট বা ডিলিট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে না। বড় বড় কোম্পানিগুলো যেমন গুগল, ফেসবুক তারা তাদের নিজস্ব ক্লাউড সার্ভার ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে গুগল-ফেসবুকের কোন একটি সার্ভার যদি কোনো কারণবশত ডাউন বা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে অন্যান্য সার্ভারগুলো উক্ত ডাটাগুলো প্রদান করে থাকে।

আরো পরিস্কার ভাবে বোঝাতে গেলে সাধারণ যে Hosting গুলো যেমন শেয়ার্ড সার্ভার, ভিপিএস সার্ভার, এবং ডেডিকেটেড সার্ভার গুলোর ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের রিসোর্স শুধুমাত্র একটি কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে আর ক্লাউড সার্ভার এর ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য অনেক গুলো ভিন্ন-ভিন্ন কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে সুতরাং এদের মধ্য থেকে কোন একটি কম্পিউটার ডাউন হয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলেও আপনার ওয়েবসাইটের কোনো ক্ষতি হবে না।

বিভিন্ন কারণবশত যেকোনো Hosting সার্ভার যেকোনো সময় ডাউন হয়ে যেতে পারে কিন্তু ক্লাউড Hosting সার্ভারের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই সম্ভব না। ক্লাউড হোস্টিং সার্ভারের ওয়েবসাইট গুলোর স্পিড সুপারফাস্ট হয়ে থাকে। ক্লাউড সার্ভারে সিডিএন সুবিধা থাকার কারণে কোন একজন ভিজিটর যখন উক্ত ওয়েবসাইট ভিজিট করবে তখন তার কাছাকাছি থাকা কোন একটি সার্ভার থেকে উক্ত ভিজিটরকে সেই তথ্যগুলো প্রদান করা হবে। যার ফলে ব্যবহারকারী বা ভিজিটর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উক্ত ওয়েবসাইটটি এক্সেস করতে পারবে। মূলত ভিডিও স্ট্রিমিং এর জন্য এই হোস্টিং সার্ভার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। Cloud Hosting সার্ভারের সিকিউরিটি নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। এটি যেমন Powerful ঠিক তেমনি secured।

WordPress Hosting Server – ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভার

এগুলোর বাইরে আরও একটি Hosting সেবা দেখতে পাবেন সেটি হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভার। অনেক কোম্পানি অন্যান্য হোস্টিং সেবার পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য আলাদাভাবে Hosting সেবা দিয়ে থাকে। ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভার হচ্ছে ডেডিকেটেড ভাবে শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়্যার এর জন্য তৈরি করা। কেননা ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য অনেকগুলো সফটওয়্যার রয়েছে যার মধ্যে WordPress অন্যতম। আর WordPress Hosting Server শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য কাস্টমাইজ করা। এখানে আপনি অন্য কোন সফটওয়্যার যেমন জুমলা, পাইথন এগুলো সেটাপ করতে পারবেন না।

আপনি Shared সার্ভার ভিপিএস সার্ভার বা ক্লাউড সার্ভারে যেকোন সফটওয়ারের মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস Hosting সার্ভারে কেবলমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমেই ওয়েবসাইট তৈরি করা যাবে। বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি আলাদাভাবে কিছু এক্সপার্ট নিয়োগ দিয়ে থাকেন এই ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভার ম্যানেজ করার জন্য। তাই একে ম্যানেজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভারও বলা হয়ে থাকে।

উক্ত এক্সপার্টগন গ্রাহক বা কাস্টমারের হয়ে ওয়ার্ডপ্রেস Hosting সার্ভারে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর সিকিউরিটি, Speed, Performance থেকে শুরু করে Regular Backup পর্যন্ত কার্য সম্পাদন করে থাকে। সুতরাং এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে এসব বিষয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না। আপনি যে কোম্পানির নিকট থেকে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভার ক্রয় করবেন সেই কোম্পানির এক্সপার্টগন আপনার হয়ে উক্ত কার্য সম্পাদন করবে।

আপনার যদি বাজেট জনিত কোন প্রকার সমস্যা না থাকে এবং ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় কার্য সম্পাদনের সময় না থাকে তাহলে WordPress Hosting Server ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এ ধরনের Hosting সার্ভার এর মূল্য অন্যান্য সার্ভার গুলোর তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনেক কোম্পানি ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভারের এর সাথে যুক্ত করে থাকে। তাই ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং সার্ভার ক্রয় করার পূর্বে উক্ত কোম্পানি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জেনে নিবেন। যেমন SiteGround এর ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং শেয়ার্ড হোস্টিং এর সাথে যুক্ত, কিন্তু SiteGround এর শেয়ার্ড হোস্টিং ও খুবই পাওয়ারফুল। তাই তারা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং কে শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভারের সাথে যুক্ত করে রাখে এবং শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য সেটি ম্যানেজমেন্ট করে থাকে। তবে পাওয়ারফুল সার্ভার এর কারণে SiteGround এর হোস্টিং প্যাকেজ গুলোর মূল্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়ে থাকে।

হোস্টিং কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়

হোস্টিং কেনার আগে যেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন – পাওয়ারফুল Hosting সার্ভার গুলো যেমন ডেডিকেটেড, ক্লাউড এসব ক্ষেত্রে খুব একটা চিন্তা-ভাবনা না করার লাগলেও শেয়ার্ড ও ডিপিএস হোস্টিং ক্রয় এর ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে। নিচে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো আলোচনা করা হলো।

Budget বা Cost

বাজেট বা খরচ বিষয়টি Hosting এর ক্ষেত্রে খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে দুই ধরনের Cost বা খরচ আপনি দেখতে পাবেন। একটি হচ্ছে First time charge এবং অন্যটি Renewal cost। আপনি প্রথম কিস্তিতে যে মূল্যে Hosting সার্ভার ক্রয় করবেন সেটি হচ্ছে ফার্স্ট টাইম চার্জ এবং পরবর্তী ধাপ গুলোতে যে অর্থ প্রদান করতে হবে সেগুলো হচ্ছে Renewal cost।

অনেক নামিদামি কোম্পানিও আপনাকে প্রথম সময়ে ৮০% এর মত ডিসকাউন্ট দিবে কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যাবে উক্ত হোস্টিং সার্ভার আপনার বাজেটের বাইরে। তবে ভালো পরিমাণ একটি ডিসকাউন্ট পাওয়ার জন্য আপনাকে কমপক্ষে এক বছরের হোস্টিং কিনতে হবে। সুতরাং যে কোন Hosting সার্ভার ক্রয় করার পূর্বে পরবর্তী সময়ে renew করতে কত খরচ হবে সেটিও জেনে নিন। নতুবা পরবর্তীতে হোস্টিং সার্ভার পরিবর্তন করার মত ঝামেলায় পড়তে হবে।

Uptime এবং Downtime

Hosting এর সাথে আপ টাইম এবং ডাউন টাইম শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আপনি প্রায়শই বিভিন্ন Hosting রিভিউ এ দেখে থাকবেন আপটাইম এবং ডাউন টাইম এর বিষয়টি। আর টাইম হলো মূলত সেই সময়টা যখন আপনার ওয়েবসাইট সক্রিয় বা অনলাইনে থাকবে। আর ডাউন টাইম হচ্ছে সেই সময়টা যখন আপনার ওয়েবসাইটটি অফলাইন বা ডাউন থাকবে। অর্থাৎ উক্ত সময়ে যদি কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে চায় তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি লোড হবে না। যা সার্চ ইঞ্জিন রেংকিং থেকে শুরু করে আপনার ওয়েবসাইটের রেপুটেশন প্রবলেম হবে।

কেননা কম দামে Hosting কিনতে গিয়ে যদি আপনার হোস্টিং খারাপ হয়ে যায় আর সেখানে ডাউন টাইম এর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটটি রেঙ্ক করবে না। এবং গুগল এডসেন্স এর উপার্জনে অনেকটা লোকসানের সম্মুখীন হবেন। আপনি যে কোম্পানির হোস্টিং ক্রয় করবেন তার পূর্বে উক্ত হোস্টিং সম্পর্কে গুগোল এবং ইউটিউবে রিভিউ দেখে নিন। সেখানে উক্ত হোস্টিং এর আপটাইম এবং ডাউন টাইম এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

অনেক কোম্পানি 99.99% থেকে 100% আপটাইম গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে। সেই সকল কোম্পানির নিকট থেকে Hosting সেবা নেয়া উত্তম। তাছাড়া প্রতিবছর হোস্টিং কোম্পানি গুলোর রেংকিং বের হয়, সারা বছর কোন Hosting কোম্পানির আপ টাইম কত পার্সেন্ট ছিল তার বিস্তারিত সেসব রেংকিং এ দেখতে পাবেন। সেখান থেকে বিবেচনা করে আপনার Hosting কোম্পানি নির্বাচন করতে পারেন।

Storage/স্টোরেজ স্পেস

Hosting সার্ভার ক্রয় করার পূর্বে দেখে নিন আপনার Hosting এর হার্ডডিস্ক স্পেস কত। এটা মূলত নির্ভর করে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট কেমন তার উপর। উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে, অনেকে শুধুমাত্র কয়েকটি পেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট পরিচালনা করে থাকে যেমন ধরুন বিজনেস রিলেটেড কোন ওয়েবসাইট। যেখানে কেবলমাত্র কোম্পানি সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন থাকে, যা কয়েকটি পেজ এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। সেক্ষেত্রে আপনার হোস্টিং স্পেস 50 এমবি যথেষ্ট।

আবার আপনি যদি পার্সোনাল ব্লগিং করেন, অর্থাৎ যেখানে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লেখালেখি করেন, তাহলে তার জন্য 100 থেকে 200 এমবি যথেষ্ট। তবে আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে ছবি গান ভিডিও বা অন্য কোন ডকুমেন্টেশন রাখতে চান সে ক্ষেত্রে কয়েক জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ স্পেস প্রয়োজন হতে পারে।

তাই Hosting ক্রয়ের পূর্বে আপনার কতটুকু হার্ডডিস্ক স্টোরেজ দরকার আর কতটুকু আপনি নিচ্ছেন সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। দেখা গেল পার্সোনাল ব্লগিং করছেন কিন্তু আপনার প্যাকেজ আনলিমিটেড বা কয়েক জিবি। সেক্ষেত্রে আপনার অর্থ কেবল অপচয় মাত্র। তাই শুরুতে কম ষ্টোরেজ নিয়ে শুরু করুন এবং পরবর্তীতে আপনি চাইলে প্লান আপগ্রেড করতে পারবেন। প্রায় সকল হোস্টিং কোম্পানিগুলোই আপগ্রেড সুবিধা দিয়ে থাকে।

অনেক কোম্পানি আনলিমিটেড স্পেস দিয়ে থাকে। তবে মূল কথা এই যে আনলিমিটেড বলে কিছুই নেই, মূলত আনলিমিটেড সেই পরিমাণ কে বোঝায় যে পরিমাণ আপনি কখনোই অতিক্রম করতে পারবেন না।

Bandwidth/ব্যান্ডউইথ

যে কোন Hosting সার্ভার ক্রয়ের পূর্বে ব্যান্ডউইথ অনেক বড় বিবেচ্য বিষয়। ব্যান্ডউইথ আসলে কি? প্রশ্নটির উত্তর সুজাসুজি না দিয়ে আপনাকে উদাহরণস্বরূপ বোঝানো যেতে পারে।

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট এর পেজ ভিজিট করবেন তখন তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইন্টারনেট খরচ হয়। মনে করুন, আপনি WeBangla ওয়েবসাইটের একটি আর্টিকেল ভিজিট করলেন যার জন্য আপনার ১০০ কিলোবাইট ইন্টারনেট খরচ হল। এখন WeBangla এর ব্যান্ডউইথ যদি 1GB হয় তাহলে সেখান থেকে 100 কিলোবাইট কমে গেল। এভাবে যখন একে একে ভিজিটর আসতে থাকবে এবং WeBangla এর পেজ গুলো ভিজিট করবে তখন তাদের যে পরিমাণ ইন্টারনেট খরচ হবে ঠিক সেই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ WeBangla থেকে কমতে থাকবে। আর যখন সেটা 1GB তে পৌঁছবে তখন WeBangla ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে যাবে অর্থাৎ আর কোন ভিজিটর WeBangla ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারবে না।

এখন যদি WeBangla ওয়েবসাইটটি আবার চালু করতে হয় তাহলে হোস্টিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে WeBangla এর ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করে নিতে হবে। এই হিসাবটি একমাসের হয়ে থাকে। অর্থাৎ 1 জিবি ব্যান্ডউইথ শেষ হবার পর যদি WeBangla তাদের ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি না করে তাহলে পরবর্তী মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু হবার জন্য। সুতরাং এ থেকে বোঝা গেল WeBangla ওয়েব সাইটের ব্যান্ডউইথ প্রতিমাসে 1GB

এখন এই ব্যান্ডউইথ নির্ভর করবে আপনার ওয়েবসাইটের উপর। আপনি যদি পার্সোনাল ব্লগিং করে থাকেন তাহলে খুব বেশি ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবেনা। তবে আপনার ওয়েবসাইটে যদি প্রচুর ইমেজ বা ছবি এবং ভিডিও বা অন্যান্য ডকুমেন্টেশন থাকে তাহলে ব্যান্ডউইথ বেশি লাগবে। সুতরাং কত ব্যান্ডউইথ লাগবে সেটা নির্ভর করবে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর কেমন তার উপর। সাইটের ভিজিটর যদি বেশি হয় তাহলে অবশ্যই অনেক বেশি ব্যান্ডউইথ লাগবে আর যদি সাইটের ভিজিটর কম হয় তাহলে কম ব্যান্ডউইথে সমস্যা নেই।

কাস্টমার সাপোর্ট

Hosting নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাস্টমার সাপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা Hosting সার্ভার জাতীয় বিষয়ে যে কোন সময় যে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিতেই পারে। কিন্তু মূল বিষয় হলো উক্ত কোম্পানির রেসপন্স টাইম কিরূপ। অর্থাৎ আপনার রিকুয়েস্ট এর কত কম সময়ের মধ্যে তারা আপনাকে রিপ্লাই দিবে। তাছাড়া আপনি যদি ওয়েবসাইট তৈরিতে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে অনেক কোম্পানিতে Hosting সার্ভার ক্রয় করার পর তাদের লাইভ চ্যাট অপশন এ রিকোয়েস্ট করলে তারা আপনার ডোমেইনের সাথে উক্ত হোস্টিং সার্ভার কানেক্ট করে দিবে।

এছাড়াও দেখতে হবে তারা কতটা গুরুত্বের সাথে আপনার যে কোন সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে Hostgator এর কাস্টমার সাপোর্ট কোয়ালিটি আমার কাছে খুবই চমৎকার মনে হয়েছে। কেননা তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাস্টমারদের সেবা প্রদান করে থাকে। আপনি যেকোন বিষয়ে যতক্ষণ ইচ্ছা তাদের প্রশ্ন করতে পারেন এবং তারা অনবরত আপনার প্রশ্নের উত্তর এবং সমাধান দিয়ে যাবে।

সিকিউরিটি এবং ব্যাকআপ

সিকিউরিটি এবং ব্যাকআপ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আপনার ওয়েবসাইট কিংবা Hosting সার্ভার যেকোনোভাবে ভাইরাস বা Malware দ্বারা আক্রান্ত হতেই পারে। তবে তার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা হচ্ছে ওয়েব সাইট ব্যাকআপ এবং রিস্টোর এর সুবিধা। অনেক কোম্পানি খুব সহজেই ব্যাকআপ এবং রিস্টোর সুবিধা প্রদান করে থাকে।

অর্থাৎ এক ক্লিকেই আপনি ব্যাকআপ করতে পারবেন এবং এক ক্লিকেই উক্ত ব্যাকআপ Restore করে নিতে পারবেন। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইট যদি কখনো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে আপনি ব্যাকআপ Restore করার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন। সুতরাং যে কোন কোম্পানির নিকট থেকে হোস্টিং সার্ভার ক্রয় করার পূর্বে তাদের ব্যাকআপ এবং রিস্টোর এর সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন।

Hosting সার্ভার ক্রয় করার পূর্বে উপরোক্ত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করবেন। এছাড়া এর বাইরে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যা প্রায় সকল কোম্পানি প্রদান করে থাকে, যেমন Free SSL, DNS Management, Email, Access Manager, Subdomain ইত্যাদি। তবে মোটামুটি উপরোক্ত বিষয়গুলো দেখে বিবেচনা করলেই ইনশাআল্লাহ আপনি একটি ভাল Hosting সার্ভার ক্রয় করতে পারবেন।

আরো পড়ুন
সিডিএন নিয়ে সব কিছু — আপনার যা জানা প্রয়োজন।

এই আর্টিকেলে আমরা জানতে পারলাম হোস্টিং কি? হোস্টিং কত প্রকার? হোস্টিং কেনার আগে বিবেচ্য বিষয় সমূহ কি কি?

আজ এ পর্যন্তই পরবর্তী আর্টিকেল আসা পর্যন্ত ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Share this

6 thoughts on “হোস্টিং কি? কত প্রকার? হোস্টিং কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়।”

    • আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
      অনুগ্রহ করে সাথে থাকবেন।

      Reply

Leave a Comment