অফ পেজ এসইও (Off Page SEO) কি ? কিভাবে করবেন?

SEO এর ক্ষেত্রে অফ পেজ এসইও এর গুরুত্বপূর্ন অপরিসীম। অফ পেজ এসইও কতটা গুরুত্বপূর্ন সে কথা বলেতে গেলে আপনাকে একটা উদাহরন দেওয়া যেতে পারে।

মনে আছে? সেই বড় একটি বাজারে ছোট্ট একটি দোকানের উদাহরনটা?

এখন ধরুন আপনি আপনার সেই দোকানটিকে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সাথে এবং আপনার দোকানের ডেকোরেশন থেকে শুরু করে ভালো মানের পন্য বা সেবা সমুহকে আপনার ব্লগের থিম ডিজাইন ও ভালো মানের আর্টিকেল বা কন্টেন্ট অর্থাৎ অন পেজ এসইও এর সাথে তুলনা করতে পারেন।

এখন আপনার একটি দোকান হলো এবং সেই দোকানে ভালো মানের পন্য ও আনলেন। কিন্তু বিষয়টা হলো, এখানেই তো সবকিছু শেষ নয়। আপনার দোকানে কাষ্টমার না আসলে তো আর বিক্রি হবেনা। যার জন্য পাবলিসিটি করতে হবে।

এতে আপনার দোকান ধীরে ধীরে পরিচিতি পাবে এবং এক সময় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে বিক্রির পরিমান ও বৃদ্ধি পাবে – ঠিক এভাবেই ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে তা জনপ্রিয় এবং সার্চ ইন্জিন র‌্যাংকিং এর উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়াটিই হলো অফ পেজ এসইও

আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট র‌্যাংক করার জন্য যে কার্যক্রম গুলো বাইরে থেকে করতে হয় তাকে অফ পেজ এসইও বলে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর ক্ষেত্রে অফ পেজ এসইও এর গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু মাত্র অন পেজ এসইও দ্বারা একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইন্জিনে র‌্যাংক করনো খুবই কষ্ট সাধ্য কাজ।

সুতরাং, আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ভালো মানের On Page SEO করা আর্টিকেলের পাশাপাশি যদি মোটামুটি পরিমানে অফ পেজ এসইও টা করে নিতে পারেন তাহলে খুব সহজেই সার্চ ইন্জিনে র‌্যাংক করার সম্ভাবনা বহু গুনে বৃদ্ধি পাবে।

অফ পেজ এসইও (off page SEO) কিভাবে করতে হয়?

অফ পেজ এসইও করার অনেক গুলো পন্থা রয়েছে ঠিকিই কিন্তু গুগল সহ অন্যান্য সার্চ ইন্জিন গুলো প্রতিনিয়ত তাদের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করে থাকে যার জন্য কোন ধরনের অফ পেজ এসইও এর কার্যক্রম সার্চ ইন্জিন গুলো পছন্দ বা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে তা জানা খুবই জরুরি।

তার আগে একটা কথা বলে নেওয়া জরুরি – দেখুন আমরা যারা নতুন ব্লগার তাদের নিকট SEO এর Advanced কার্যক্রম গুলো পুরোটাই মাথার উপর দিয়ে যাবে। তাই ব্যাকা ত্যাড়া কথা না বলে অফ পেজ এসইও এর মূল কাজ গুলো কি কি এবং খুব সহজেই অফ পেজ এসইও (off page SEO) কিভাবে করতে পারবেন। সেই বিষয় গুলোই আজ আলোচনা করবো।

2020 সালে অফ পেজ এসইও এর যে কার্যক্রম সমূহ সার্চ ইন্জিন গুলো সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে তা হল-

এছাড়া আরো কিছু কার্যক্রম রয়েছে যা বর্তমান সময়ে অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ যা না করলেও সমস্যা নেই, তবে আপনি এসব কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা এবং ডোমেইন অথোরিটিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

আবারও বলে রাখি, গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইন্জিন গুলোর অ্যালগরিদম এখন তুলনামূলক ভাবে খুবই সহজ। আপনি শুধু মাত্র ভালো মানসম্মত আর্টিকেল ও ভালো ভাবে অন পেজ এসইও করার মাধ্যমে সার্চ র‌্যাংকিংকে আসতে পারবেন।

তাই অযথা প্রশ্ন-উত্তর সাইট, ফোরাম পোষ্টিং, Blog commenting, ডিরেক্টরি সাবমিশন এর পিছনে সময় নষ্ট না করে কন্টেন্ট বা আর্টিকেলের দিকে মনোনিবেশ করুন।

তবে অনেকের এই বিষয় গুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে। তাই নিচে এই বিষয় গুলো সম্পর্কে ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

বিশেষ দ্রষ্টাব্য

আমরা অনেকে Link Building কে অফ পেজ এসইও এর আলাদা অংশ মনে করি যা একটি ভুল ধারনা। মূলত লিংক বিল্ডিং হলো ব্যাকলিংক এর সার্বিক কার্যক্রম। ঠিক যেমন গেস্ট পোষ্টিং ও ব্যাকলিংক এর একটি অংশ।

উদাহরন স্বরুপ বলতে গেলে, মনে করুন আপনি পিন্টারেস্ট প্রোফাইলে আপনার সাইট যুক্ত করলেন, সেটা একদিকে যেমন সোস্যাল বুকমার্কিং, আবার সেটা একটা ব্যাকলিংক এবং সার্বিক দিক থেকে সেটা লিংক বিল্ডিং এর একটি কার্যক্রম। আসলে অফ পেজ এসইও এর সকল কার্যক্রম একে অপরের সাথে নিবিড় ভাবে সম্পর্কযুক্ত।

ব্যাকলিংক কি?

অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো ব্যাকলিংক। আমরা অনেকেই ব্যাকলিংক সম্পর্কে সল্প ধারনা নিয়েই এই বিষয়ে কাজ করা শুরু করে দিই। যা একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে মারাত্তক বিপদের কারন হয়ে দাড়াতে পারে।

ব্যাকলিংক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য অন্য একটি ওয়েবসাইট হতে প্রাপ্ত একটি রিকমেন্ডেশন। অর্থাৎ একটি এক্সটারনাল লিংক যা আপনি অন্য একটি ওয়েবসাইট থেকে পেয়ে থাকেন।

আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, অন্য কোন একটি ওয়েবসাইট যখন তাদের অর্টিকেল বা পোষ্টে রেফারেন্স স্বরুপ আপনার সাইটের লিংকটি ব্যবহার করবে তখন তাকে ব্যাকলিংক বলে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আপনি উক্ত ওয়েবসাইট হতে আপনার সাইটের জন্য একটি ব্যাকলিংক পেলেন।

উদাহরন স্বরুপ বলতে গেলে, মনে করুন আপনি আপনার সাইটে এস ই ও সম্পর্কিত একটি আর্টিকেল লিখছেন, এখন উক্ত আর্টিকেলে আপনি WeBabgla সাইটের একটি লিংক দিয়ে বললেন বিস্তারিত জানতে উক্ত সাইটটি ভিজিট করতে পারেন। তাহলে এখানে আপনি WeBabgla সাইট কে একটি ব্যাকলিংক দিলেন।

ব্যাকলিংক এর গুরুত্ব

ব্যাকলিংক এর গুরুত্ব বোঝাতে আপনাকে সার্চ ইন্জিন অ্যালগরিদমের একটি উদাহরন দেওয়া যেতে পারে, মনে করুন আপনি গুগলে “ব্লগিং কি” লিখে সার্চ করলেন, এখন গুগোল প্রথমে সার্চ করেবে উক্ত বিষয়ের উপর মোট কতগুলো ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লেখা আছে।

এখন ফলাফল হাজার থেকে লক্ষ্যধিক আসতে পারে কিন্তু গুগল তার প্রথম পেজে মাত্র ১০ টি ফলাফল প্রদর্শন করবে। আর এখানেই হলো আসল কাহিনী, উক্ত হাজার বা লক্ষ্যধিক ওয়েবসাইট গুলোর মধ্যে গুগল দেখবে কোন কোন ওয়েবসাইট গুলো সবচেয়ে বেশি সংখ্যাক ওয়েবসাইট গুলোর সাথে কানেক্টেড, অর্থাৎ কোন ওয়েবসাইট গুলোর ব্যাকলিংক সবচেয়ে বেশি এবং বিশ্বাসযোগ্য।

সুতরাং এই একটি উদাহরনের মাধ্যমেই বুঝতে পারছেন ব্যাকলিংক এর গুরুত্ব কতখানি।

ব্যাকলিংক মূলত দুই প্রকার –

  • নো-ফলো ব্যাকলিংক (No-Follow)
  • ​ডু-ফলো ব্যাকলিংক (Do-Follow)

নো-ফলো ব্যাকলিংক (No-Follow)

যে সমস্ত লিংক র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে তেমন কোন গুরুত্ব বহন করে না, এবং সার্চ ইন্জিনকে আমরা কমান্ড দিয়ে থাকি যেন সে উক্ত লিংকটিকে Crawl না করে সে সমস্ত লিংককে নো-ফলো ব্যাকলিংক (No-Follow) বলে।

WordPress এ লিংক No Follow করা
WordPress এ লিংক No Follow করার অপশন

যে সমস্ত লিংক গুলোকে আমরা নো-ফলো (No-Follow) দিয়ে থাকি –

  • অ্যাফিলিয়েট লিংক।
  • নিম্ন মানের অথোরিটি সম্পন্ন লিংক।

আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার অ্যাফিলিয়েট লিংক সর্বদা নো-ফলো (No-Follow) হিসাবে ব্যবহার করবেন। কারন এসমস্ত লিংক গুলোর কোন প্রকার র‌্যাংকিং এর প্রয়োজন হয় না।

ঠিক তেমনি ভাবে, নিম্ন মানের অথোরিটি সম্পন্ন সাইট গুলোর লিংক যখন আপনি আপনার সাইটে ব্যবহার করবেন সে ক্ষেত্রে ও No-Follow কমান্ড ব্যবহার করা উচিত।

​ডু-ফলো ব্যাকলিংক (Do-Follow)

ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস – ব্লগিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সকল প্রকার লিংকই ডিফল্ট ভাবে ডু-ফলো (Do-Follow) লিংক হয়ে থাকে, যদি না আপনি নিজে থেকে তা No-Follow সিলেক্ট করেন। ব্যাকলিংক এর ক্ষেত্রে এক মাত্র ডু-ফলো লিংকই সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করে।

যে সমস্ত লিংক এর জন্য সার্চ ইন্জিন রোবটকে Count বা Crawl করার নির্দেশ দেওয়া হয় তাদেরকে ডু-ফলো (Do-Follow) লিংক বলে।

নো-ফলো এবং ডু-ফলো এর পার্থক্যটা এখানেই – নো-ফলো লিংক সমুহ সার্চ ইন্জিন গুলো ইগনোর করে আর অপর দিকে ডু-ফলো লিংক গুলো সার্চ ইন্জিন গুলাে র‌্যাংকিং এর জন্য কাউন্ট করে থাকে।

ডু-ফলো লিংক এর ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়

যে কোন ওয়েবসাইট হতে ডু-ফলো লিংক নিলেই সেটা সার্চ ইন্জিন গুলোতে র‌্যাংকিং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাজে লাগবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা ভুল ওয়েবসাইট হতে ব্যাকলিংক নিলে তা র‌্যাংকিং এর বদলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

যে কোন ওয়েবসাইট হতে ব্যাকলিংক নেবার ক্ষেত্রে উক্ত সাইটের যে সব বিষয় পর্যালোচনা করে নিবেন –

  • ওয়েবসাইটটি আপনার সাইটের সাথে রিলেভেন্ট কি না।
  • উক্ত সাইটের DA (Domain Authority) এবং PA (Page Authority) ভালো কি না।
  • উক্ত সাইটের SS (Spam Score) বেশি কিনা।

যে সমস্ত ওয়েবসাইট গুলো আপনার সাইটের সাথে রিলেভেন্ট নয়, সে সমস্ত সাইট গুলো থেকে ব্যাকলিংক নিবেন না। যেমন মনে করুন আপনার সাইটটি প্রযুক্তি সম্পর্কিত সে ক্ষেত্রে আপনার কখনোই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সাইট গুলো থেকে ব্যাকলিংক নেওয়া উচিত নয়।

ডু-ফলো ব্যাকলিংক নেবার ক্ষেত্রে সর্বদা High DA (Domain Authority) এবং High PA (Page Authority) সম্পন্ন সাইট বাছাই করা উচিত। যে সব সাইটের DA এবং PA অনেক বেশি সেখানকার ব্যাকলিংক ও সার্চ ইন্জিন গুলোর কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।

কিছু কিছু সাইট আছে যারা ব্লাক হ্যাট এসইও করার মাধ্যমে তাদের সাইটে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক নিয়ে আসে, যেটা গুগল সহ যে কোন সার্চ ইন্জিন কাছে অনৈতিক। ব্লাক হ্যাট এসইও বা অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে সাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধির কারনে উক্ত সাইট গুলোতে Spam Score (স্প্যাম স্কোর) বেড়ে যায় এবং সার্চ ইন্জিন গুলোর কাছে উক্ত সাইট গুলো গ্রহনযোগ্যতা হারায়।

এখন আপনি যদি উক্ত সাইট গুলো হতে ব্যাকলিংক নিয়ে থাকেন তাহলে সার্চ ইন্জিন গুলোর কাছে আপনার সাইটও বিশ্বস্ততা বা গ্রহনযোগ্যতা হারাবে। যা আপনার সাইটের রেংকিং এ মারাত্তক প্রভাব ফেলবে।

সর্বোপরি সার্চ ইন্জিন গুলোর কাছে আপনাকে বিশ্বাসের পাত্র হতে হবে। এটাই অফ পেজ এসইও এর মূল মন্ত্র। অর্থাৎ আপনি বা আপনার সাইট সার্চ ইন্জিন গুলোর কাছে যত বেশি বিশ্বস্ততার পাত্র হতে পারবেন আপনার সাইটের র‌্যাংকিং তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।

কিভাবে একটি সাইটের SS, DA এবং PA চেক করবেন?

প্রথমেই একটি কথা বলে রাখা দরকার, গুগলের সাথে সাইটের DA এবং PA এর কোন সম্পর্ক নেই। একটি সাইটটের DA এবং PA যাই হোক না কেন তা আপনার সাইটের গুগল র‌্যাংকিং এ কোন প্রকার প্রভাব ফেলবে না।

DA এবং PA MOZ দ্বারা ডেভলপ করা হয়েছে। আপনার মনে এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে আমরা কেন সাইটের DA এবং PA নিয়ে কথা বলি?

দেখুন বিষয়টি হচ্ছে আপনি যখন কোন সাইট হতে ব্যাকলিংক নিতে চাইবেন তখন কি দেখে সেই সাইটের মান নির্নয় করবেন? এখানেই আসে এই বিষয় গুলো।

শুধু মাত্র সাইটের ইন্টারফেস বা আর্টিকেল গুলো দেখে আপনি একটি সাইটের র‌্যাংকিং জানতে পারবেন না। সুতরাং আপনারকে কিছু ফর্মুলার উপর থেকে এই ধারনা নিতে হবে।

আর এখানেই আপনাকে সাহায্য করবে SS, DA এবং PA। তবে কোন সাইটের SS বা স্প্যামিং স্কোর যদি কম থাকে তাহলে DA এবং PA কম হওয়া সত্বেও সেখান হতে ব্যাকলিংক নিতে পারেন।

যে কোন সাইটের SS, DA এবং PA চেক করার খুবই জনপ্রিয় একটি ওয়েব অ্যাপলিকেশন হলো Websiteseochecker। এই ওয়েব অ্যাপলিকেশন এর মাধ্যমে আপনি আপনার বা যে কোন সাইটের সম্পুর্ন র‌্যাংক হতে শুরু করে এসইও এর বিস্তর ধারনা পাবেন।

কোন ওয়েবসাইটের স্প্যাম স্কোর চেক করতে এখানে ক্লিক করুন

Backlink checker, Spam score checker,

উপরের ন্যায় একটি পেজ প্রদর্শিত হবে। এখানে আপনার কাঙ্খিত ব্লগ বা ওয়েবসাইটের লিংকটি টাইপ করুন (যেমন আমি সার্চ বক্সে sohag360.com টাইপ করেছি) এবং “I am not a robot” সিলেক্ট করে Check বাটনে ক্লিক করুন।

অফ পেজ এসইও (off page SEO), ব্যাকলিংক,

Check বাটনে ক্লিক করার পর আপনার নিকট উক্ত ফলাফল প্রদর্শন করা হবে। এখানে লক্ষ্য করুন –

  • ১ম বক্সটিতে রয়েছে আপনার প্রদানকৃত সাইটের লিংক।
  • ২য় বক্সটিতে রয়েছে DA অর্থাৎ উক্ত সাইটের Domain Authority 10
  • ৩য় বক্সটিতে রয়েছে PA অর্থাৎ উক্ত সাইটের Page Authority 26
  • ৭ম বক্সটিতে দেখতে পারছেন SS অর্থাৎ স্প্যাম স্কোর (Spam Score) 1%

যেকোন সাইট হতে ব্যাকলিংক নেবার ক্ষেত্রে মোটামুটি এই ৩টি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন হলো SS (Spam Score)। এখানে স্প্যাম স্কোর অনলি ১% যেটা খুবই ভালো।

তবে কোন সাইটের স্প্যাম স্কোর যদি ৭%-১০% এর ও বেশি হয়ে যায় তাহলেও উক্ত সাইট হতে ব্যাকলিংক পরিহার করা উচিৎ। আপনার নিজের সাইটের ক্ষেত্রেও সর্বদা স্প্যামিং স্কোর ১/২ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন।

মনে রাখবেন স্প্যামিং স্কোর বৃদ্ধি পাওয়া মানে সার্চ ইন্জিন গুলোর কাছে আপনার সাইট বিশ্বস্ততা হারাবে যা র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে মারাত্তক হুমকি স্বরুপ।

Websiteseochecker ওয়েব অ্যাপলিকেশন এর উল্লেখযোগ্য সুবিধা সমুহের মধ্যে রয়েছে –

DA (Domain Authority) Checker
PA (Page Authority) Checker
SS (Spaming Score) Checker
Backlink Checker
Keyword Checker (Long tail and Keyword density)
Domain Age (ডোমেইনের বয়স)
Website Trafic Checker
Plagiarism Checker

এছাড়া এই ওয়েব অ্যাপলিকেশন এর মাধ্যমে যে কোন ওয়েবসাইটের এসইও সম্পর্কিত আরো অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাবেন।

কম্পিটিটর/প্রতিযোগীর ব্যাকলিংক পর্যবেক্ষন

ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে আপনাকে সর্বদা ভালো একজন কম্পিটিটর বা প্রাতিযোগী বাছাই করতে হবে। যেখানে আপনার টার্গেট থাকবে সর্বদা সেই প্রতিযোগী সাইট এর এসইও অ্যানালাইসিস করা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা। তবে অবশ্যই আপনার নিশ রিলেটেড প্রতিযোগী বাছাই করবেন।

এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো আপনার কম্পিটিটর কোন কোন সাইট হতে ব্যাকলিংক নিয়েছে সেটা পর্যবেক্ষন করা। ফ্রিতে ব্যাকলিংক চেক করার জন্য জনপ্রিয় একটি সাইট হল ahrefs backlink checker

ahrefs backlink checker

উপরের ছবিটি লক্ষ্য করুন, এটা ahrefs backlink checker এর ইন্টারফেস। এখানে বক্সে আপনার কাঙ্খিত সাইটের লিংকটি টাইপ করুন এবং Check backlinks বাটনে ক্লিক করুন।

ব্যাকলিংক

অতঃপর ফলাফল স্বরুপ উপরোক্ত পেজ প্রদর্শিত হবে। এখানে আপনি আপনার কাঙ্খিত সাইটের ব্যাকলিংক সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন।

ফ্রি মানে এই নয় যে এখানে আপনি ব্যাকলিংক এর আনলিমিটেড তথ্য পাবেন। যেহেতু ফ্রি সেহেতু অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আপনি অল্প পরিসরে যে কোন ওয়েবসাইটের কিছু ব্যাকলিংকের তথ্য পাবেন এখানে।

ahrefs backlink checker দিয়ে ব্যাকলিংক এর যে সব তথ্য পাবেন –

  • সাইটের টপ ১০০ টি ব্যাকলিংক
  • সাইটে মোট কতগুলো ব্যাকলিংক রয়েছে
  • মোট ব্যাকলিংক এর মধ্যে কতগুলো Do-follow এবং কতগুলো No-follow Backlink
  • সাইটের ডোমেইন রেটিং কত
  • সাইটের Referring Domains এর সংখ্যা কত এবং তার মধ্যে কতগুলো Do-follow

অফ পেজ এসইও – সোস্যাল ‍মিডিয়া

অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে সোস্যাল মিডিয়া ও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন। আপনি যখন প্রাথমিক অবস্থায় নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তখন সোস্যাল মিডিয়া গুলোই হবে আপনার ট্রাফিকের একমাত্র ভরসা। আপনার সাইটটি সোস্যাল মিডিয়াতে যত বেশি সক্রিয় থাকবে সেই সাথে সাইটের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।

যদিও সোস্যাল মিডিয়া ট্রাফিক এর ক্ষেত্রে সিপিসি খুবই কম থাকে। তারপরও ব্যাকলিংক জেনারেট করার ক্ষেত্রে সোস্যাল মিডিয়া অনেক কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

আপনি বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াতে যেমন ফেসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট এ যে সকল পোষ্ট করবেন এবং উক্ত পোষ্ট গুলোর মাধ্যমে যে ব্যাকলিংক গুলো পাবেন তা সবই নো-ফলো (No follow) ব্যাকলিংক হবে। নো-ফলো ব্যাকলিংক হলে ও উক্ত পোষ্ট গুলো আপনার সাইটের এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে আপনি valid social traffic ও পাবেন।

সোস্যাল বুকমার্কিং

সোস্যাল বুকমার্কিং হলো সোস্যাল মিডিয়া এর এমন একটি সার্ভিস যেখানে গ্রাহকগন তাদের ব্লগ বা ওয়েবসাইট উক্ত সোস্যাল সাইট গুলোতে বুকমার্কিং করে রাখতে পারে। অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে ফ্রিতে ডু ফলো ব্যাকলিংক পেতে সোস্যাল বুকমার্কিং খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

যেমন পিন্টারেস্ট এর প্রোফাইলে আপনি আপনার সাইটটি ক্লেইম করে যুক্ত করার মাধ্যমে সেখান হতে যে ব্যাকলিংক পাবেন তা ডু-ফলো ব্যাকলিংক।

তাছাড়া ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে ব্রান্ডে পরিনত করতে সোস্যাল বুকমার্কিং খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। এখানে আপনি যেমন আপনার সাইট প্রোমট করতে পারছেন ঠিক তেমনি ফ্রি ব্যাকলিংক ও পাচ্ছেন।

পিন্টারেস্ট থেকে ডু-ফলো ব্যাকলিংক নিতে যা যা করবেন –

প্রথমে আপনাকে পিন্টারেস্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

অফ পেজ এসইও Pinterest claim site
অফ পেজ এসইও – পিন্টরেস্ট

অতঃপর Account Settings এ গিয়ে Claim অপশনে ক্লিক করুন। এখানে উপরের ছবির ন্যায় আপনার ডোমেইনটি টাইপ করুন এবং Claim বাটনে ক্লিক করুন।

Pinterest html tag for claim, অফ পেজ এসইও

উপরের ছবির ন্যায় একটি পেজ প্রদর্শিত হবে। এখানে Add HTML tag সিলেক্ট করুন। এখানে আপনাকে একটি HTML tag দেওয়া হবে যা আপনার সাইটের থিম এডিটরের <header> অপশনে যুক্ত করে Next বাটনে ক্লিক করতে হবে।

অফ পেজ এসইও Blogger edit html

এখন আপনি যদি ব্লগার প্লাটফর্ম ব্যবহার করেন তাহলে Theme > Edit HTML অপশনে গিয়ে <head> সেকশনে পিন্টারেস্ট থেকে দেওয়া HTML tag টি পেষ্ট করুন, অতঃপর Save বাটনে ক্লিক করুন।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারী হন তাহলে প্রসেসটি আরো সহজ।

Go to WordPress Dashboard

> Appearance
> Editor
> Theme Header (header php)
> অতঃপর  <head> সেকশনে পিন্টারেস্ট
থেকে দেওয়া HTML tag টি পেষ্ট করুন  এবং
Update File বাটনে  ক্লিক করুন।
অফ পেজ এসইও Pinterest Submit html tag

ব্লগ বা ওয়েবসাইটের থিম সেকশনে যথাযথ ভাবে সেভ করার পর পিন্টারেস্টে Next অতঃপর Submit বাটনে ক্লিক করুন। আপনার সাইটটি ক্লেইম হতে ২৪ ঘন্টা সময় নিতে পারে, তবে চিন্তার কোন কারন নেই এটা সাধারনত ১ ঘন্টার মধ্যেই হয়ে যায়।

জনপ্রিয় কিছু সোস্যাল বুকমার্কিং সাইট গুলো হলো –

গেস্ট পোষ্টিং

অফ পেজ এসইও এর অনেক বড় একটি জায়গা দখল করে আছে গেস্ট পোষ্টিং।

Guest posting – বাংলাতে আমরা যাকে বুঝি অতিথি লেখক হিসাবে। অর্থাৎ, নিজের লেখা আর্টিকেল যখন আপনি অন্যের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে পোষ্ট করবেন তখন তাকে গেস্ট পোষ্টিং বলে।

সার্চ ইন্জিন গুলোর বর্তমান অ্যালগরিদম অনুসারে ভালো মানের ব্যাকলিংক জেনারেট এর ক্ষেত্রে গেস্ট পোষ্টিং সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কেননা এখানে আপনার নিজে যাচাই করে ভালো মানের ওয়েবসাইট হতে ব্যাকলিংক নেবার সুুযোগ রয়েছে।

অন্যের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য ভালো আকর্ষনীয় আর্টিকেল লিখে, উক্ত আর্টিকেলের কোন একটি জায়গায় নিজের ওয়েবসাইটের লিংক দেবার মাধ্যমে সেখান হতে যেমন আপনি ভালো পরিমান ট্রাফিক পেতে পারেন ঠিক তেমনি সেখান থেকে একটি ডু-ফলো ব্যাকলিংক ও পাবেন।

গেস্ট পোষ্টিং এর ক্ষেত্রে সতর্কতা

তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন না করলে অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে গেস্ট পোষ্টিং আপনার সাইটের ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে।

যে কোন ধরনের ওয়েবসাইট হতে ব্যাকলিংক নেওয়া উচিৎ নয়। যত ভালোই ওয়েবসাইট হোক না কেন, উক্ত ওয়েবসাইট যদি আপনার টপিক বা নিশ রিলেটেড না হয় তাহলে কখনোই সেখানে ব্যাকলিংক এর জন্য গেস্ট পোষ্টিং করবেন না।

গেস্ট পোষ্টিং করার ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন –

  • যে ওয়েবসাইটে গেস্ট পোষ্টিং করছেন তার সাথে আপনার সাইটের টপিক রিলেটেড কিনা। অর্থাৎ উক্ত সাইটের নিশ আর আপনার সাইটের নিশ একই কিনা।
  • উক্ত সাইটের SS, DA এবং PA কত।
  • যে সব সাইটের SS (Spam Score) ৫-৭ এর বেশি সেসব সাইট গুলোতে গেস্ট পোষ্টিং না করায় ভালো।

অর্থাৎ কোন সাইট যদি আপনার নিশ রিলেটেড না হয় এবং সাইটের স্প্যাম স্কোর যদি ৫-৭ এর বেশি হয় তাহলে উক্ত সাইট গুলো হতে পাওয়া ব্যাকলিংক আপনার সাইটের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে আপনার সাইট সার্চ ইন্জিনে র‌্যাংক বৃদ্ধির পরিবর্তে র‌্যাংক হারতে পারে।

প্রশ্ন – উত্তর সাইট

Quora বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয় একটি প্রশ্ন উত্তর সাইট। আপনি এখানে নির্দিষ্ট টপিক বা বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আপনার Audience কে Target করে যেমন Question করতে পারবেন, ঠিক তেমনি তাদের প্রশ্নের উত্তর ও দিতে পারবেন।এছাড়া আপনি আপনার প্রত্যেকটি Indivisual পাঠককে মেসেজ ও পাঠাতে পারবেন।

Quora একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম হলেও এখানে আপনি বাংলা ভাষা সিলেক্ট করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বাংলা ভাষাভাষী Advance টার্গেট করতে পারবেন। এখানে আপনি আপনার প্রত্যেকটি প্রশ্ন, উত্তর বা মেসেজে আপনার কাঙ্খিত সাইটের লিংক ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও কোরা খুবই জনপ্রিয়। মনে করুন আপনার নিজের কোন ওয়েবসাইট নেই তবুও কোরতে আপনার নির্দিষ্ট টপিকের উপর উত্তরে বা বার্তা পাঠিয়ে সেখানে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করতে পারেন।

কোরা থেকে প্রাপ্ত ট্রাফিক বা ভিজিটর সম্পর্কে যদি বলতে হয় তাহলে নিজ দায়িত্বে এইটুকু বলতে পারি, আপনি এখান থেকে যে ভিজিটর গুলো পাবেন তা ১০০% অথেনটিক এবং কার্যকরী।

যেমন আপনাদের আমার নিজের একটি উদাহরন দেওয়া যেতে পারে, আমি অনলাইনে বিভিন্ন স্টক ফটোগ্রাফি সাইটে নিজের তোলা ছবি বিক্রি করে আয় করে থাকি এবং একটি মজার ব্যাপার এই যে, আমার রেফারেলে যত মানুষ স্টক ফটোগ্রাফি সাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে তার ৯০ ভাগই এসেছে কোরা থেকে।

আরো পড়ুন – অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় এর ৪ পর্বের ধারাবাহিক কম্পিলিট গাইডলাইনস।

জনপ্রিয় কয়েকটি প্রশ্ন উত্তর সাইট

ফোরাম পোষ্টিং – অফ পেজ এসইও

ফোরাম পোষ্টিং হলো অফ পেজ এসইও এর আরো একটি কৌশল। যদিও বর্তমান সময়ে ফোরাম পোষ্টিং অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রভাব ফেলে না। তবুও একে লিস্টে রাখার অন্যতম কারন হলো – ফোরাম পোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার সাইটের জনপ্রিয়তা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

তবে অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে ফোরাম পোষ্টিং এর প্রভাব না থাকার অন্যতম কারন হলো ভালো মানের ফোরাম এর অভাব। কেননা ভালো মানের ফোরাম হতে ডু-ফলো ব্যাকলিংক নিতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভালো লেভেলের মেম্বর হতে হবে।

কিন্তু আমরা বেশির ভাগ সময় ফোরামে নতুন অ্যাকউন্ট খুলেই সেখান হতে ভালো মানের ব্যাকলিংক এর আশা করি যার দরুন অবস্থা হিতে বিপরীত হয়ে দাড়ায়।

আর বর্তমান সময়ে ফোরাম পোষ্টিং যেহেতু র‌্যাংকিং এ তেমন প্রভাব ফেলে না সেহেতু আমার মতে অহেতুক ঝামেলা নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

ব্লগ কমেন্টিং

বিভিন্ন ব্লগ সাইটে কমেন্ট করার সময় দেখবেন সেখানে নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা হয়তোবা ভাবতে পারেন সেখান হতে আপনারা একটি ব্যাকলিংক পাবেন।

হা হা হা… কিন্তু ব্রাদার, মনের মধ্যে এমন চিন্তা নিয়ে ব্লগে কমেন্ট করলে ফলাফল উল্টো হয়ে যেতে পারে। কেননা 2013-2014 সাল পরবর্তী সময়ে সার্চ ইন্জিন গুলোতে আমুল পরিবর্তন এসেছে। যেখানে অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে ব্লগ কমেন্টিং একেবারেই অর্থহীন হয়ে দাড়িয়েছে।

আর এখন ব্যাকলিংকের আশায় বিভিন্ন ব্লগ সাইটে গিয়ে নিজের সাইটের লিংক ব্যবহার করে কমেন্ট করলে তা আপনার সাইটের স্প্যাম স্কোর বৃদ্ধির কারন হয়ে যেতে পারে। যা আপনার সাইটের র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে মারাত্তক হুমকি স্বরুপ।

ডিরেক্টরি সাবমিশন (Directory submission)

যে সব সাইট বিভিন্ন বিভাগ ভিত্তিক ভাবে হাজার হাজার সাইটের ঠিকানা তাদের ডিরেক্টরিতে সাজিয়ে রাখে তাদের ডিরেক্টরি সাইট বলে। আর এই ধরনের ডিরেক্টরি সাইট গুলোতে নিজের সাইট এর ঠিকানা যুক্ত করাকে ডিরেক্টরি সাবমিশন বলে।

আমরা এখন সার্চ ইন্জিন গুলোতে আমাদের কাঙ্খিত বিষয়ে কিছু লিখলেই সার্চ ইন্জিন গুলো মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার সাইট আমদের প্রদর্শন করে। কিন্তু সার্চ ইন্জিন তৈরির আগে বিষয়টি এমন ছিল না। তখনকার সময়ে মানুষ এই ডিরেক্টরি সাইট গুলো হতে তাদের কাঙ্খিত সাইট খুজে নিত।

আর সার্চ ইন্জিন গুলো অ্যালগরিদম পূর্বের থেকে এখন আমুল পরিবর্তন হয়েছে। পূর্বে ব্যাকলিংক এবং র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ডিরেক্টরি সাবমিশন এর অনেক প্রভাব থাকলেও বর্তমান সময়ে তা নেই।

তবে আপনি যদি ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন ডিরেক্টরি সাইট হতে ব্যাকলিংক নিতে পারেন তাহলে তার একটা প্রভাব তো আপনার সাইটে অবশ্যই পড়বে।

অতিরিক্ত

অফ পেজ এসইও এর প্রথম পর্বে আজ এর গুরুত্বপূর্ন কার্যক্রম সমুহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কেননা অফ পেজ এসইও এর বিস্তারিত লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।

মনে করুন আপনার বন্ধুদের একটি গ্রুপ আছে সেখানে আপনি আপনার সাইটের লিংকটি শেয়ার করলেন, সেটা ও এক প্রকার অফ পেজ এসইও।

আবার আপনি যদি YouTube এ ভিডিও আপলোড করে Description বক্সে আপনার সাইটের লিংক শেয়ার করেন তাহলে সেটাও এক ধরনের অফ পেজ এসইও।

=শেষ কথা=

গুগল সার্চ ইন্জিনের র‌্যাংকিং এ আসার জন্য সর্বপ্রথম গুগল আপনার আর্টিকেলের অন পেজ এসইও পর্যালোচনা করবে। যদি সব কিছু ঠিক থাকে এর পর আপনার সাইটের অফ পেজ এসইও পর্যালোচনা করবে।

এখন যদি আপনার সাইটের অন পেজ এসইও এবং অফ পেজ এসইও সব কিছুই ঠিক থাকে তাহলে আপনি সার্চ ইন্জিনের প্রথম কয়েকটি পেজের মধ্যে চলে আসতে পারবেন। এমনকি আপনার টার্গেট কিওয়ার্ড এর ডিফিকাল্টি যদি Low থাকে তাহলে আপনি গুগলের প্রথম পেজেই চলে আসতে পারেন।

কিন্তু এখন আপনি প্রথম পেজে টপ পজিশনে আসবেন নাকি র‌্যাংকিং ড্রপ করে সার্চ ফলাফল থেকে হারিয়ে যাবেন সেটা নির্ভর করবে Watch Time এবং Bounce Rate এর উপর।

আরো পড়ুন –

অফ পেজ এসইও এর এই আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। এবং পরবর্তী আর্টিকেল আসা পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

Share this

2 thoughts on “অফ পেজ এসইও (Off Page SEO) কি ? কিভাবে করবেন?”

Leave a Comment