Online Earning – ৫ টি উপায়ে অনলাইনে আয় করুন।

Earn money online bd – ৫ টি উপায়ে অনলাইনে আয় করুন।

দিন দিন আমাদের জীবন যাত্রা বয্যবহুল হয়ে পরছে। আর তাই নিজের কর্মের পাশাপাশি Passive ইনকান খুবই প্রয়োজনীয়। আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো কিভাবে আপনি পড়ালেখা বা চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে অর্থ আয় করতে পারেন।

নিম্নোক্ত অর্থ আয় এর মাধ্যম গুলো ১০০% নিরাপদ। এখানে আমি কোন প্রকার Scam সাইট নিয়ে আলোচনা করবো না।

১. ব্লগিং করে আয়ঃ (আপনি যদি লেখালেখি পছন্দ করেন)

Online Earning এর কথা প্রথমেই আসতে পারে ব্লগিং। ব্লগিং খুবই সন্মান জনক পেশা। আপনি যদি লেখালেখি করতে ভালোবাসেন তাহলে ব্লগিং আপনার সবচেয়ে উত্তম পছন্দ হতে পারে। ব্লগিং দুই ভাবে শুরু করা যায় একটি হলো অর্থ খরচ করে আর অন্যটি হলো ফ্রী ব্লগিং। আপনি যদি লেখা লেখি তে প্রফেশনাল হয়ে থাকেন অর্থাৎ আপনার যদি লেখা লেখির হাত ভালো হয়ে থাকে তাহলে আপনি অর্থ খরচ করে ব্লগিং শুরু করতে পারেন।

ব্লগিং করার জনপ্রিয় দুটি মাধ্যম হলোঃ

  • Blogger
  • WordPress

Blogger এবং WordPress এর মধ্যে পার্থক্য ও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Blogger: ফ্রীতে ব্লগিং শুরু করার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হলো ব্লগার। এটি Google এর একটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে আপনি খুব সহজে ফ্রীতে একটি ব্লগ খুলতে পারেন এবং লেখালেখি করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। ব্লগারের মাধ্যমে কোন অর্থ খরচ না করেই আপনি Google Adsence এর Approval নিতে পারেন। এখানে কোন প্রকার Domain এবং Hosting এর প্রয়োজন হয় না। আপনি ব্লগারের Subdomain দিয়েই Adsence Approval পেতে পারেন।ব্লগারে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

যেমন আপনি যদি Google এর কোন পলিসি অমান্য করেন তাহলে Google চাইলে আপনার ব্লগ Delete করে দিতে পারে। এখানে আপনি কোন প্রকার কপিরাইট কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন না। অর্থাৎ কন্টেন্ট গুলো আপনার সম্পূর্ণ নিজের হতে হবে।
ব্লগার এর মাধ্যমে কিভাবে অর্থ উপার্জন করতে হয় তা জানতে এখানে ক্লিক করুন।

WordPress হলো ব্লগিং করার অন্য একটি প্লাটফর্ম। এখানে আপনাকে অর্থ দিয়ে ব্লগ বা ওয়েবসাইট খুলতে হবে। WordPress ব্লগিং শুরু করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি Domain ও Hosting কিনতে হবে। Domain হলো আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা। যেমনঃ www.example.com আর হোস্টিং হলো আপনার একটি সার্ভার যেখানে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ফাইল গুলো থাকবে।

অর্থাৎ যখন কোন ভিজিটর Domain মাধ্যমে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ঢুকবে তখন হোস্টিং সার্ভার আপনার ব্লগের ফাইল গুলো উক্ত সার্ভার থেকে প্রদর্শিত করবে। WordPress Paid হওয়ায় এখানে আপনি নিজের ইচ্ছা মতো আপনার সাইট ডিজাইন করতে পারবেন যা ব্লগারে খুবই সীমাবদ্ধ।

এখানে আপনি বিভিন্ন প্রকার প্লাগিন পাবেন যার দারা ওয়েবসাইট ডিজাইন থেকে শুরু করে খুব সহজে Google Search এ Rank করাতে পারবেন। Google এর কিছু নির্দেশিকা মেনে আপনি এখানে ও Adsence এর Approval নিতে পারেন।

ব্লগিং এর মাধ্যমে ছাড়াও অন্য অনেক উপায়ে অর্থ উপার্জন করা যায়।

  • Affiliate marketing করে।
  • অন্য কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রমোট করে।
  • নিজের প্রোডাক্ট প্রমোট করে।

২. YouTube থেকে আয়ঃ (আপনি যদি Videography পছন্দ করেন)

বর্তমানে Online Earning এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম গুলোর মধ্যে YouTube অন্যতম। আপনি আপনার SmartPhone ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ধারন করে তা আপলোড করে সেখান থেকে ও অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যেকোন একটি বিষয় পছন্দ করে তার উপর আপনি ভিডিও বানাতে পারেন।

মনে করুন আপনার একটি বাগান আছে তাহলে আপনি সেখানে কিভাবে গাছের চারা রোপন ও পরিচর্যা করেন তার উপর ভিডিও বানিয়ে YouTube এ আপলোড করতে পারেন।ব্লগিং থেকে ইউটিউবে অর্থের পরিমান অনেক বেশি।

৩. Affiliate marketing:

Online Earning এর অন্যতম অবস্থানে রয়েছে Affiliate Marketing. আমরা দিন দিন অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছি। তাই প্রতিদিনের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে কেনাকাটা ও অনলাইনে সেরে নিচ্ছি। আর তাই দিন দিন ই-কমার্স এর গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। আপনি অনলাইনে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা সেবা বিক্রি করে কমিশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। দুই ধরনের পণ্যের Affiliate marketing করা যায়।

  • ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট
  • ডিজিটাল প্রোডাক্ট

ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হলো বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী যা স্পর্শ করা যায়। যেমন বিভিন্ন ইলেকট্রিক দ্রব্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য অথবা যে কোন প্রকার দ্রব্য যা হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়।
অন্য দিকে ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলো এমন কিছু দ্রব্য যা হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না। যেমন কিভিন্ন ধরনের Software ,Theme, Customization Tools, accounts ইত্যাদি।

বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের কমিশন ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। জনপ্রিয় কিছু ই-কমার্স সাইট যেমন Amazone, Aliexpress, Gearbest, Click bank, Theme forest ইত্যাদি। Affiliate marketing সম্পর্কে বিস্তারিত আমি পরবর্তী আর্টিকেলে আলোচনা করবো।

৪. ফটোগ্রাফি থেকে আয়ঃ

আপনি যদি ফটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রাফিতে ভালো হয়ে থাকেন তাহকে আপনার তোলা ছবি বা ভিডিও অনলাইনে বিক্রির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অনকাইনে ছবি বিক্রির জন্য কোন প্রকার ডিএস এল আর এর প্রয়োজন হয় না। আপনি আপনার মোবাইল দিয়েই ছবি তুলে তা অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।

বর্তমানে SmartPhone গুলোতে Outstanding সব ক্যামেরা ব্যবহারের কারনে এটা সম্ভব হয়েছে। তবে আপনার কাছে যদি ডিএস এল আর থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই একধাপ এগিয়ে।

আমি একজন Smartphone photographer আমি নিজেও আমার Smartphone দিয়ে তোলা ছবি অনলাইনে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে থাকি। আমি ShutterStock এ কাজ করি।

ছবি বিক্রির জন্য জনপ্রিয় কিছু সাইটঃ ShutterStock, Alamy, Adobe Stock, DreamsTime, DepositPhotos, PhotoDune, Bigstock ইত্যাদি। পরবর্তী আর্টিকেলে আমি অনলাইনে ছবি বিক্রির উপর সিরিজ পোস্ট করবো। অর্থাৎ অনলাইনে Account খোলা থেকে শুরু করে Payment পর্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করবো, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে থাকবেন।

ছবি অনলাইনে বিক্রি করে আয় করার সম্পূর্ণ সিরিজ আর্টিকেল পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

৫. Upwork, Frelancher, Fiver:

আপনি যদি Specific কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন যেমন Graphics Design, SEO (Search Engine Optimization), SMM (Social Media Marketing), Accounting, Video Editing, Web Design, Web Developing ইত্যাদি, তাহলে Online Earning এর ক্ষেত্রে Upwork, Frelancher বা Fiver এ কাজ করে অনেক বড় পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন। এখানে বিড করার মাধ্যমে আপনি কাজ পেতে পারেন।

কোন প্রকার অর্থ বা সময় ইনভেস্ট না করেই এখানে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন। তবে এখানে ভালো সাফল্য পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষ কতে হবে।

আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি কোন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তা আমাদের কমেন্টে জানান। ইনশাল্লাহ আমরা পরবর্তী আর্টিকেল গুলোতে তার বিস্তারিত আলোচনা করবো।

Share this

Leave a Comment