ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে? ওয়েবসাইট বানানোর খরচ কেমন?

একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে অথবা ওয়েবসাইট বানানোর খরচ কেমন? বহুল আলোচিত এই প্রশ্নই আমাদের আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু।

বর্তমান সময়ে ব্লগ বা ওয়েবসাইট ছাড়া যেন অনলাইন জগতটাকে কল্পনাই করা যায় না। আর দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের সুযোগ বৃদ্ধির সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওয়েবসাইটের সংখ্যা।

এক নজরে আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু –

একটি ওয়েবসাইট বানানোর খরচ বা ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে? আসলে এই প্রশ্নটা সম্পূর্নই আপেক্ষিক। কেননা ওয়েবসাইট বিভিন্ন ধরনের হয় যেমন, ই-কমার্স, ফোরাম সাইট, নিউজ ওয়েবসাইট, ব্যাক্তিগত ব্লগ বা সাধারন ব্লগ সাইট। আর এক এক ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে খরচ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে খরচ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কেননা এসব ওয়েবসাইট এর জন্য ভালো মানের হোস্টিং এর প্রয়োজন হয়। তাছাড়া সাধারন কোন মানুষের পক্ষে এই ধরনের ওয়েবসাইট বানানো তুলনামূলক অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ‍যার জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কোন একজন ডেভলপারের স্বরনাপন্ন হতে হয়।

ফোরাম এবং সোস্যাল মিডিয়া সাইট গুলো ও প্রফেশনাল লেভেলের সাইট। এই ধরনের সাইট গুলো কেবল তৈরির পরই কাজ শেষ হয়ে যায় না। সাইট তৈরির পর তা রক্ষনাবেক্ষনের ক্ষেত্রেও অনেক বেগ পেতে হয়। সুতরাং সাইট তৈরিতে যেমন ডেভলপারের স্বরনাপন্ন হতে হবে তেমনি তা রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ও। তাছাড়া এই ধরনের সাইট গুলোর ক্ষেত্রেও ভালো মানের হোস্টিং এর প্রয়োজন হয়।

নিউজ ওয়েবসাইট গুলো সাধারনত নিজেরা একটু পরিশ্রম দিলেই তৈরি করা যায়। যদিও নিউজ সাইট গুলোর কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটা প্রফেশনাল লুক দিতে হয় তবে তা ইউটিউব বা বিভিন্ন ব্লগ থেকে স্টাডি করার মাধ্যমেও আয়ত্ব করে নিতে পারেন। এসব সাইটের জন্য কি ধরনের হোস্টিং প্রয়োজন হবে তা নির্ভর করবে আপনার নিউজ সাইটটি কোন লেভেলের তার উপর।

ব্লগ ওয়েবসাইট বলতে আমারা ব্যাক্তিগত ব্লগ বা সাধারন ব্লগকেই বুঝে থাকি। এই ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে কোন প্রকার ডেভলপারের প্রয়োজন হয় না। কেনানা ইউটিউব বা বিভিন্ন ব্লগ ঘেটে একটু স্টাডি করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই একটি ভালো এবং প্রফেশনাল মানের ব্লগ তৈরি করে ফেলতে পারবেন। অনেকে এমন সাধারন ব্লগ বানাতে ও ডেভলপারের স্বরনাপন্ন হয়ে থাকে।

কিন্তু এক্ষেত্রে আমি একটি কথাই বলবো, ব্লগার কিংবা ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মে একটি সাধারন বা ব্যাক্তিগত ব্লগ বানাতে যদি ডেভলপার এর প্রয়োজন হয় তাহলে ব্লগিং ক্যারিয়ার আপনার জন্য নয়।

কেনানা ব্লগিং এর সফলতা কেবল আর্টিকেল লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে আপনাকে এসইও সম্পর্কে ও ধারনা রাখতে হবে। যার কারনে আপনাকে নিয়মিত ওয়েবসাইট এর এসব খুটিনাটি বিষয়ে স্টাডি করতে হবে।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সর্ব প্রথম আপনাকে একটি প্লাটফর্ম পছন্দ করতে হবে। আমি এখানে ব্লাগার এবং ওয়ার্ডপ্রেস দুটি প্লাটফর্ম নিয়ে আলোচনা করবো।

ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে সেটা নির্ভর করবে আপনি কোন প্লাটফর্মে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন। সাধারনত একটি ওয়েবসাইট বানাতে প্রয়োজন –

  • ডোমেইন
  • হোস্টিং
  • থিম

তবে আপনি যদি ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে কেবল মাত্র একটি ডোমেইন কিনলেই যথেষ্ট। তাহলে চলুন আলোচনা করা যাক ওয়েবসাইট বানানোর খরচ সম্পর্কে।

ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে বা ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট বানানোর খরচ

ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট বানাতে হলে আপনার ডোমেইন, হোস্টিং এবং থিম সব কিছুরই প্রয়োজন। ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট বানানোর খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা –

ডোমেইন

ওয়েবসাইট বানানোর খরচ এর প্রথমেই আসে ডোমেইন এর কথা। একটি .com টপ লেভেল ডোমেইন ৭০০-১০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। তবে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের মার্কেটিং এর জন্য ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যেও দিয়ে থাকে। কিন্তু তা কেবল প্রথম বছরের জন্য এবং পরবর্তী বছরে যখন কিনিউ করবেন তখন ঠিকই পুরো টাকা কেটে নেবে।

তবে ডোমেইন ক্রয় করার পূর্বে অবশ্যই তাদের রিনিউ খরচ সম্পর্কে জেনে নেবেন। কেননা অনেক কোম্পানি আছে যারা প্রথম বছর কম মূল্যে ডোমেইন দিলেও পরবর্তী বছর থেকে অনেক বেশি চার্জ করে থাকে।

এছাড়া কোন কোম্পানি কেমন সুবিধা দিচ্ছে সেই বিষয় সম্পর্কেও সচেতন থাকা দরকার। উদাহরন সরুপ বলতে গেলে, আপনি যদি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট Bluehost থেকে ডোমেইন ক্রয় করার কথা ভাবেন তাহলে .com টপ লেভেল ডোমেইন এর জন্য আপনাকে বছরে $12.99 পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আপনি যদি Privacy+Protection ক্রয় করেন তাহলে অতিরিক্ত $11.88 পরিশোধ করতে হবে।

কিন্তু আপনি যদি এই একই ডোমেইন Namecheap থেকে ক্রয় করেন তাহলে আপানকে শুধু .com ডোমেইন বাবদ মাত্র ৮ ডলার পরিশোধ করতে হবে এবং সাথে সারাজীবনের জন্য ফ্রি Who.is ডোমেইন প্রাইভেসি সুবিধা পাবেন। কিন্তু Bluehost এ আপনি এই ধরনের অতিরিক্ত কোন প্রকার সুবিধা পাবেন না।

তবে চিন্তার কোন কারন নেই, যে কোম্পানির কাছ থেকে ডোমেইন ক্রয় করেন না কেন। আপনি চাইলে ১০ ডলারের বিনিময়ে যে কোন সময় তা ট্রান্সফার করে অন্য কোম্পানিতে নিয়ে যেতে পারেন।

সুতরাং আপনি যে ধরনের ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন ক্রয় করেন না কেন তা মোটামুটি ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ ডোমেইন খরচ ৮০০ টাকা ধরা যেতে পারে।

ওয়েবসাইট বানানোর খরচ

ডোমেইন খরচ = ৮০০ টাকা

হোস্টিং

ওয়েবসাইট বানানোর খরচ এবং ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে এই প্রশ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় হলো হোস্টিং। হোস্টিং কে একটি ওয়েবসাইটের প্রান ও বলা হয়। আর ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনাকে অবশ্যই হোস্টিং ক্রয় করতে হবে।

একটি ওয়েবসাইটের স্পীড ৭০-৮০ ভাগ নির্ভর করে হোস্টিং এর উপর। তাছাড়া আসছে ২০২১ সালে গুগলের নতুন আপডেট যেখানে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে “সাইটের বা পেজ স্পিডকে র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসাবে বিবেচনা করা হবে”। সুতরাং বুঝতেই পারছেন হোস্টিং কতটা গুরুত্বপূর্ন।

কিন্তু ভালো হোস্টিং নির্বাচন করা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। এ ক্ষেত্রে আপনাকে ব্যবহারকারীদের রিভিউ দেখতে হবে এবং ভালো ফিডব্যাক দেখে হোস্টিং ক্রয় করতে হবে।

আপনি যদি ব্যাক্তিগত ব্লগ সাইট বা নিউজ পোর্টাল সাইট তৈরি করতে চান তাহলে নতুন অবস্থায় খুব বেশি অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। একটু রিসার্চ করে ভালো মানের হোস্টিং নির্বাচন করতে পারেন। মূলত আপনার সাইটে ভিজিটর কেমন তার উপর নির্ভর করবে আপনার কেমন হোস্টিং দরকার।

প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ব্লগ সাইটটি যদি বাংলাতে হয় তাহলে BDIX সার্ভার এর হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এই হোস্টিং গুলো থেকে বাংলাদেশের মধ্যে খুবই ভালো সার্ভিস পাবেন। প্রথম অবস্থায় আপনি Hostingbangladesh বা EBN Host থেকে শেয়ার্ড হোস্টিং ক্রয় করতে পারেন। এখানে মাত্র ৮০০-১৫০০ টাকার মধ্যেই ১ বছরের জন্য ১-৫ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজের হোস্টিং পেয়ে যাবেন।

তবে আপনার সাইটটি যদি ইংরেজিতে হয়ে থাকে তাহলে আমেরিকান কোন সার্ভার এর হোস্টিং ক্রয় করা বেশি ভালো হবে। যেমন এক্ষেত্রে আপনি প্রাথমিক পর্যায়ে খুবই কম মূল্যে Namecheap এর শেয়ার্ড হোস্টিং ক্রয় করতে পারেন। Namecheap এর শেয়ার্ড হোস্টিং ও আপনি ১ বছরের জন্য ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন তাও আবার ২০ জিবি স্টোরেজ সহ।

এরপর পরবর্তীতে যখন আপনার সাইটে ভালো পরিমানে ট্রাফিক আসা শুরু করবে তখন যে কোন সময় আপনি হোস্টিং সার্ভার পরিবর্তন করতে পারবেন। এমনকি ভিজিটর বেশি হলে আপনি ক্লাউড হোস্টিং ও নিয়ে নিতে পারেন এবং তখন আর আপনাকে আপনার সাইটের স্পীড নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

ক্লাউড হোস্টিং এর জন্য Cloudways খুবই জনপ্রিয়। এখানে আপনাকে ম্যানেজড হোস্টিং সার্ভার এ ২৫ জিবি স্টোরেজ এর জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০ ডলার ব্যয় করতে হবে। তবে আপনি যদি নিজেই সার্ভার ম্যানেজ করতে পারেন তাহলে Linode থেকে একই প্যাকেজ মাত্র ৫ ডলারেই নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে সার্ভার ম্যানেজ করা জানতে হবে।

ওয়েবসাইট বানানোর খরচ

ডোমেইন খরচ = ৮০০ টাকা
হোস্টিং খরচ = ১৫০০ টাকা

এখানে হোস্টিং এর খরচ ১৫০০ টাকা ধরা হয়েছে। তবে, আপনি যদি কোন কোম্পানির বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, যেখানে খুব বেশি পোষ্ট লেখা হয় না। তাহলে ১ জিবি হোস্টিং আপনার জন্য যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যেই আপনি হোস্টিং পেয়ে যাবেন।

কিন্তু এখানে সাধারন ব্লগ বা নিয়মিত ব্লগ পোষ্ট করা হয় এমন সাইটের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। সুতরাং ডোমেইন এবং হোস্টিং সহ একটি ওয়েবসাইট বানানোর খরচ: ডোমেইন খরচ ৮০০ এবং হোস্টিং খরচ ১৫০০ অর্থাৎ বছরে ৮০০+১৫০০=২৩০০ টাকা, এর পর আসবে থিম এর খরচ।

ই-কামর্স এবং ফোরাম সাইটের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই অনেক ভালো হোস্টিং এর প্রয়োজন হয়। কেননা এই ধরনের সাইট গুলোতে একই সাথে প্রচুর ভিজিটর অ্যাক্টিভ থাকে। এক্ষেত্রে আপনার ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সার্ভার এর প্রয়োজন হতে পারে। যার জন্য আপনার শুধুমাত্র হোস্টিং বাবদ প্রতি মাসে খরচ ১০০০ টাকা থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ বছরে কম করে হলেও ১২০০০ টাকা শুধু মাত্র হোস্টিং এর জন্য ব্যয় করতে হবে। এবং আপনার সাইটের ভিজিটর যত বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে হোস্টিং ও আপগ্রেড করতে হবে।

তাছাড়া ই-কমার্স ওয়েবসাইট আমাদের মতো সাধারন মানুষেদের পক্ষে তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে আপনি যদি সাধারন ব্লগ তৈরি ভালো ভাবে অয়ত্ব করে নিতে পারেন তাহলে ইউটিউব এবং বিভিন্ন ব্লগের হেল্প নিয়ে নিজেই ই-কমার্স সাইট তৈরি করে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইট তৈরি এবং কাস্টমাইজ এর বিষয়ে আপনাকে যথেষ্ট ধারনা অর্জন করতে হবে।

এক এক একজন ডেভলপার ওয়েবসাইট তৈরিতে এক এক ধরনের চার্জ করে থাকে। তাই ডোমেইন, হোস্টিং এবং থিম এর খরচ ছাড়া অতিরিক্ত খরচ ডেভলপারের উপর নির্ভর করবে।

থিম

ওয়েবসাইট বানানোর খরচ এর মধ্যে থিম এর বিষয়টা আসলে আপেক্ষিক। অনেকে ব্লগিং শুরু করার প্রথম পর্যায়ে থিম এর পেছনে অর্থ ব্যয় করতে চায় না। কেননা ওয়ার্ডপ্রেসে একটি থিমের মূল্য কম করে হলে ৩০ ডলার থেকে শুরু হয়। তবে বহুল ব্যবহৃত বা জনপ্রিয় থিম গুলোর একটি কিনতে আপনাকে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ ডলার গুনতে হবে। যা টাকার অংকে প্রায় ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। অর্থাৎ মোটামুটি ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যেই থিম পেয়ে যাবেন।

তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ডেভলপাররা তাদের থিমের উপর ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকেন। যেখানে নির্ধারিত মূল্য থেকে খুবই কম মূল্যে থিম কিনে নিতে পারবেন। আর থিমের টাকা আপনার এককালীন ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ থিম একবারই কিনলেই তা সারা জীবনের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় থিম গুলো হলো –

আপনি শুরুর দিকে ফ্রি থিম গুলো ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রি থিম ব্যবহার করেও আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অ্যাডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে এবং অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। কিন্তু কোন ভাবেই জিপিএল বা নাল থিম ব্যবহার করবেন না।

তবে আপনার যদি আর্থিক সমস্যা না থাকে তাহলে আমি বলবো আপনি ফ্রি থিমের বদলে প্রিমিয়াম থিম ক্রয় করুন। কেননা ফ্রি থিমে আপনি আনেক ফিচার পাবেন না। যার কারনে আপনি আপনার সাইটে একটি প্রফেশনাল লুক দিতে ব্যার্থ হবেন। আর যেহেতু ব্লগিং একটি ক্যারিয়ার সেহেতু অর্থ খরচ হলে ও আপনাকে সেই ভাবেই মাঠে নামা উচিৎ।

ওয়েবসাইট বানানোর খরচ

ডোমেইন খরচ = ৮০০ টাকা
হোস্টিং খরচ = ১৫০০ টাকা
থিম খরচ = ৩৫০০ টাকা

সর্বমোট খরচ = ৫৮০০ টাকা

সুতরাং যদি থিম ক্রয় করেন তাহলে একটি সাধারন/ব্যাক্তিগত ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানানোর খরচ – ডোমেইন খরচ ৮০০, হোস্টিং খরচ ১৫০০ এবং থিম ৩৫০০ টাকা অর্থাৎ  ৮০০+১৫০০+ ৩৫০০ =৫৮০০ টাকা। এখানে GeneratePress থিমের এর বিষয়টি হিসাব করা হয়েছে। তবে আপনি যদি অন্য কোন থিম পছন্দ করেন তাহলে মূল্য কম বেশি হতে পারে।

আমি আগেই বলেছি থিমের খরচ বিষয়টা আপেক্ষিক। তাই এই টাকার অঙ্ক দেখে ভয় পাবার কিছু নেই। তাছাড়া আপনি আপনার পরিচিত কারো কাছ থেকেও কম মূল্যে প্রিমিয়াম থিম ক্রয় করে নিতে পারেন। কেননা বেশির ভাগ থিম গুলোই একের অধিক সাইটে অ্যাক্টিভ করা যায়।

SSL Certificate & Domain Privacy

আসলে এই সময়ে এসে SSL Certificate সম্পর্কে লেখার ও কোন প্রয়োজন পড়ে না। কারন আপনি খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটটি ক্লাউড ফ্লেয়ারে যুক্ত করে আজীবনের জন্য ফ্রি SSL Certificate ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আরো অনেক উপায়ে প্লাগইন ব্যবহার করেই ফ্রি SSL Certificate ব্যবহার করতে পারবেন।

আর Domain Privacy এর কথা আগেই বলেছি। এমন সাইট থেকে ডোমেইন ক্রয় করুন যারা ফ্রিতে Domain Privacy এর Who.is সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেমন Namecheap এবং Dreamhost ফ্রিতে আজীবনের জন্য Who.is সুবিধা প্রদান করে থাকে। তাই এর জন্য আপনাকে অতিরিক্ত কোন অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

সুতরাং ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে বা ওয়েবসাইট বানানোর খরচ এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে- থিম ছাড়া ওয়েবসাইট বানাতে প্রায় ২৩০০ টাকা আর থিম সহ ওয়েবসাইট বানাতে প্রায় ৫৮০০ টাকার মতো খরচ হবে।

উপরোক্ত খরচের কমেও আপনি হোস্টিং পেতে পারেন। তবে একদম কম দামের হোস্টিং যেমন আপনি ব্যবহার করে সাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না, তেমনি সেই সব কমদামী হোস্টিং এর জন্য ও ভিজিটররা আপনার সাইট ভিজিট করতে চাইবে না। কেননা আমরা কেউই স্লো সাইট ভিজিট করতে চাই না।

ব্লগারে ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে এবং ব্লগারে ওয়েবসাইট বানানোর খরচ কেমন?

ব্লগারে ওয়েবসাইট বানানোর খরচ কেমন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, ব্লগার প্লাটফর্মে ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরির করতে কোন প্রকার অর্থের প্রয়োজন হয় না। এখানে আপনি গুগল ব্লগস্পটের ফ্রি সাব-ডোমেইন দিয়েই আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারেন। আর হোস্টিং ও এখানে সম্পূর্ন ফ্রি। এখানে আপনি গুগলের আনলিমিটেড হোস্টিং সুবিধা পাবেন।

যদিও ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কোন প্রকার ডোমেইন এবং হোস্টিং কোনটারই প্রয়োজন নেই, তবুও যে কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে একটি প্রফেশনাল লুক দেবার জন্য অবশ্যই একটি টপ লেভেল এর ডোমেইন প্রয়োজন।

কিন্তু আপনি যদি প্রিমিয়াম থিম ক্রয় করেন তাহলে খরচ অল্প কিছু বাড়তে পারে। তবে চিন্তার কোন কারন নেই। ব্লাগারে খুবই কম মূল্যে আপনি আপনার পছন্দের থিম পেয়ে যাবেন। আপনি চাইলে আমাদের কাছ থেকে ও খুবই কম মূল্যে ব্লগার থিম নিতে পারেন।

আর SSL Certificate এর কথা যদি বলতে হয় তাহলে সেটা নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। কারন, গুগলের ব্লগার প্লাটফর্মে SSL Certificate অজীবনের জন্য সম্পূর্ন ফ্রি।

সুতরাং আপনি যদি ব্লাগারে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে মাত্র ১০০০ টাকার মধ্যেই ডোমেইন এবং থিম সহ সম্পূর্ন ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

=শেষ কথা=

আসলে ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে সেটা সবার ক্ষেত্রে এক রকম হলেও ওয়েবসাইট বানানোর খরচ বিষয়টা সম্পূর্ন আপেক্ষিক। আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট বানাবেন মূলত তার উপর নির্ভর করবে আপনার সাইট তৈরিতে খরচ কেমন হবে।

আজকের আর্টিকেলে আমি মূলত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি মোটামুটি লেভেলের একটি ওয়েবসাইট বানাতে কেমন খরচ হয়। ডোমেইন, হোস্টিং এবং থিম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে হলে নির্দ্বিধায় নিচের কমেন্ট বক্সে যোগাযোগ করতে পারেন।

ইনশাল্লাহ, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞ্যান থেকে আপনাদের যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করবো।

Share this

Leave a Comment